হাভানা, কিউবা | আজ ভোরে যখন বোইয়েরোস অ্যাভিনিউয়ের আকাশ কালো মেঘে ঢাকা, তখন প্রকৃতির কান্নার সাথে একাকার হয়ে গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এর সেই কালরাত্রিতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনাদের নৃশংস হামলায় প্রাণ হারানো ৩২ জন কিউবান সন্তানের কফিন আজ যখন নিথর দেহে স্বদেশে ফিরল, তখন থমকে গিয়েছিল গোটা শহর।
এক বিষাদময় শেষ বিদায়
নিহত এই ৩২ জনের অপরাধ কী ছিল? তাদের অনেকেই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, যখন অতর্কিত হামলায় তাদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়। আজ ভেনেজুয়েলা থেকে আসা সেই কফিনগুলো যখন হাভানা বিমানবন্দরে পৌঁছাল, সেখানে অপেক্ষারত স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বিমানবন্দর থেকে 'বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়' পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড় বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এই শোক শুধু পরিবারের নয়, এই শোক গোটা জাতির।
বৃষ্টি ও দেশপ্রেম
প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ আর ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বৃষ্টির ফোঁটা তাদের গাল বেয়ে পড়ছিল, নাকি চোখের জল—তা আলাদা করা যাচ্ছিল না। কিন্তু প্রতিটি মানুষের চোখে ছিল দৃঢ়তা আর মুখে ছিল সেই অবিনাশী শব্দগুচ্ছ: "সম্মান ও গৌরব" (Honour and Glory)।
"তারা ঘুমানোর সময় মারা গেছেন ঠিকই, কিন্তু তারা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন," কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বলছিলেন এক বৃদ্ধা, যিনি তার নাতিকে হারিয়েছেন এই হামলায়।







