ওয়াশিংটন/মেক্সিকো সিটি: কুখ্যাত জেফরি এপস্টাইন মামলার নতুন নথি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এবার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মেক্সিকোয় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল অ্যান্থনি ওয়েনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালে এফবিআই-কে পাঠানো একটি ইমেইলে দাবি করা হয়েছে, ২০১৪ সালে মেক্সিকোর জুয়ারেজে একটি ব্যক্তিগত পার্টিতে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে গর্ভবতী করেছিলেন তিনি।
অভিযোগের মূল তথ্যসমূহ
কেনেথ ড্যারেল টার্নার নামক এক ব্যক্তির পাঠানো ওই ইমেইলে দাবি করা হয় যে:
ডিএনএ প্রমাণ: আক্রান্ত শিশুর গর্ভজাত সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়েনের সঙ্গে ১০০% মিল পাওয়া গেছে।
সাজানো বিচার: ২০১৭ সালে এই অপরাধের জন্য মেক্সিকোতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং একজন মেক্সিকান বিচারকের মধ্যে বিশাল অংকের "ঘুষের" বিনিময়ে জনৈক প্রাক্তন মার্কিন মেরিনকে তার বদলে সাজা ভোগ করতে পাঠানো হয়।
সহযোগী: এই পার্টির আয়োজনে এপস্টাইনের পরিচিত সহযোগী এবং প্রাক্তন নেভি সিল কমান্ডার রিচার্ড মার্সিনকোর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
আর্ল অ্যান্থনি ওয়েন বর্তমানে আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। তিনি এই সমস্ত অভিযোগকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং প্রতিবাদস্বরূপ ক্লাস বর্জন করেছেন বলে জানা গেছে।
সতর্কবার্তা: মার্কিন বিচার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এই নথিগুলো জেফরি এপস্টাইন তদন্তের অংশ হলেও, অভিযোগগুলো এখনো আইনগতভাবে প্রমাণিত বা যাচাইকৃত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ফাইলগুলোতে তৃতীয় পক্ষের পাঠানো অপ্রমাণিত মেইল বা তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
পরবর্তী প্রভাব
এপস্টাইন ফাইলস থেকে একের পর এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে আসায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি বাড়ছে। যদিও অনেক অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এখনো মেলেনি, তবুও এই ঘটনাগুলো বৈশ্বিক প্রভাবশালীদের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



