আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আন্দোলন এবং বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হেনরি উইনস্টন (১৯১১-১৯৮৬)-এর সংগ্রামী জীবন আজও বিশ্বজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা। ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দা থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল শোষণের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ।
শৈশব থেকেই দ্রোহের পথে
হেনরি উইনস্টন যখন কানসাস সিটির বেকার কাউন্সিলে যোগ দেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। ১৯৩০-এর দশকের সেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় থেকেই তিনি মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ান। নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের গুণাবলীতে ২০ বছর বয়সের কোঠায় থাকাকালীনই তিনি আমেরিকার ইয়ং কমিউনিস্ট লীগের জাতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও রাষ্ট্রীয় দমন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সশরীরে রণাঙ্গনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তবে যুদ্ধের পর দেশে ফিরে তাঁকে মার্কিন সরকারের তথাকথিত 'ম্যাকার্থি আমল'-এর ভয়াবহ দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়। সমাজতন্ত্রের আদর্শ প্রচার এবং মার্ক্সবাদী চিন্তা শিক্ষা দেওয়ার অপরাধে তাঁকে এবং গাস হল-এর মতো নেতাদের "বিপ্লবী অভ্যুত্থানের" মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
কারাগারের অন্ধকার ও অদম্য চেতনা
কারাবাসের সময় চরম অমানবিকতার শিকার হন উইনস্টন। গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সঠিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি, যার ফলে তিনি চিরতরে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারান। ১৯৬১ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল:
“তারা আমার দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমার দূরদর্শিতা (Vision) কেড়ে নিতে পারেনি।”
শেষ দিন পর্যন্ত অবিচল
দৃষ্টি হারানোর পর উইনস্টন আরও দ্বিগুণ উৎসাহে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। ১৯৬৬ সালে তিনি আমেরিকান কমিউনিস্ট পার্টির (CPUSA) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে মৃত্যু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মেহনতি মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।
হেনরি উইনস্টনের জীবন আমাদের শেখায় যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন কোনোটিই আদর্শিক লড়াইকে থামিয়ে দিতে পারে না। তাঁর স্মৃতি আজও নিপীড়িত মানুষের হৃদয়ে চিরজাগরুক।




