নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বিজ্ঞানমনস্কতা ও মরণোত্তর দেহদান আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী আমির চাঁদ শেখের সাথে যা ঘটলো, তাকে আধুনিক সমাজে ‘লজ্জাজনক’ বললেও কম বলা হয়। মৃত মায়ের চোখের কর্নিয়া দান করার পর, সেই অঙ্গ বিক্রির মিথ্যা অভিযোগে আমির চাঁদ এবং তাঁর পরিবারের ৬ জন সদস্যকে গ্রেফতার করল কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার কালিরহাট এলাকার বাসিন্দা আমির চাঁদ শেখ একজন পরিচিত বিজ্ঞান ও সমাজকর্মী। তিনি ‘অঞ্জনা নদী বাঁচাও কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ‘জলঙ্গী নদী সমাজ’ ও ‘কিশোর বাহিনী’র মতো সংগঠনের সাথে যুক্ত।
দান: গত ১৭ অক্টোবর ২০২৪-এ আমির চাঁদের মা রাবেয়া বিবি কর্নিয়া দানের অঙ্গীকার করেছিলেন।
সংগ্রহ: গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁর মৃত্যুর পর আইনি পদ্ধতি মেনেই ‘শান্তিপুর মরমী আই ডোনেশন সেন্টার’ কর্নিয়া সংগ্রহ করে।
পুলিশের ভূমিকা ও বিতর্ক
অভিযোগ উঠেছে, কিছু মানুষের ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কোনো প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই আমির চাঁদ ও তাঁর পরিবারকে গ্রেফতার করে। এমনকি প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখানো হলেও তা কর্ণপাত করা হয়নি। আদালত তাঁদের তিন দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে এবং মায়ের মৃতদেহের পুনরায় ময়নাতদন্তের (Post-mortem) আদেশ দিয়েছে।
বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিবাদ
এই ঘটনায় সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। নদীয়া জেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি অদ্বৈত বিশ্বাস ও জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য দেবব্রত পোদ্দার আদালতের বাইরে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের দাবি, মরণোত্তর অঙ্গদান আন্দোলনের গতি রোধ করতে কোনো মৌলবাদী শক্তি এই চক্রান্তের পেছনে কাজ করছে।
"এটি বিজ্ঞান মানসিকতার প্রসারে এক বড় বাধা। আমরা সপরিবারে আমির চাঁদ শেখের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।" — পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, নদীয়া জেলা কমিটি।
আগামীকাল বিক্ষোভ সভার ডাক
আমির চাঁদ শেখ ও তাঁর পরিবারের মুক্তির দাবিতে এবং এই হয়রানির প্রতিবাদে এক যৌথ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি: প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ।
সময়: আগামীকাল (১০ ফেব্রুয়ারি), বিকেল ৪টে।
স্থান: কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার সামনে।
অংশগ্রহণে: পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, জলঙ্গী নদী সমাজ, অঞ্জনা নদী বাঁচাও কমিটি, গণদর্পন ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠন।
নদীয়া জেলা বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে সমস্ত বিজ্ঞানকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ফ্লাগ ও ফেস্টুন সহ এই প্রতিবাদী সভায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


