টোকিও, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জাপানের সাধারণ নির্বাচনে কট্টর রক্ষণশীল সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন এলডিপি-ইশিন জোটের বিশাল জয়কে দেশটির শান্তিবাদী সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাপানি কমিউনিস্ট পার্টি (JCP)। নির্বাচনে তাকাইচির জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরপরই এক কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে দলটি।
জাপানি কমিউনিস্ট পার্টির সচিবালয় প্রধান কোইকে আকিরা আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এই ম্যান্ডেট জাপানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য নয়, বরং দেশটিকে যুদ্ধের পথে ঠেলে দেওয়ার লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।"
কমিউনিস্ট পার্টির আপত্তির প্রধান তিনটি দিক:
১. সংবিধানের শান্তিবাদী ধারা বাতিল:
কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ফলে তাকাইচি এখন খুব সহজেই জাপানের সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 9) সংশোধন করতে পারবেন। জেসিপি মনে করে, এর ফলে জাপানি ‘সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস’ সরাসরি মার্কিন নেতৃত্বে বিদেশের যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে, যা এশিয়ায় চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
২. ‘ট্রাম্প-তাকাইচি’ অক্ষ ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থনকে "বিপজ্জনক মিত্রতা" হিসেবে দেখছে কমিউনিস্টরা। তারা অভিযোগ করেছে যে, তাকাইচির "জাপান ফার্স্ট" নীতি আসলে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির বদলে সামরিক বাজেট বৃদ্ধির একটি অজুহাত মাত্র। ট্রাম্পের প্রভাবে জাপান এখন চীনের সাথে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করে।
৩. অর্থনৈতিক বৈষম্য ও কর্পোরেট তোষণ:
তাকাইচি খাবারের ওপর কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও কমিউনিস্ট পার্টির দাবি, তাঁর আসল লক্ষ্য বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর কমানো। জেসিপি-র মতে, এই জয় সাধারণ মানুষের প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধিতে কোনো ভূমিকা রাখবে না, বরং প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষের ওপর ঋণের বোঝা আরও বাড়বে।
নির্বাচনে বড় পরাজয় ও পরবর্তী কৌশল
রবিবারের নির্বাচনে ভারী তুষারপাত উপেক্ষা করে কমিউনিস্ট কর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, তাকাইচি ঝড়ে তাদের আসন সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কমে গেছে। তা সত্ত্বেও, দলটি ঘোষণা করেছে যে তারা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে শক্তিশালী বিরোধী হিসেবে কাজ করবে।
"আমরা শান্তিবাদী সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে রাজপথে থাকব। তাকাইচির এই জয় কোনোভাবেই জাপানের ঐতিহাসিক শান্তিকামী নীতির পরাজয় নয়।" — কোইকে আকিরা, জেসিপি প্রধান।
জাপানের কমিউনিস্ট পার্টি এখন অন্যান্য প্রগতিশীল দলগুলোর সাথে মিলে তাকাইচির ‘প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক অর্থনীতি’ এবং সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।





