কলকাতা: টালিগঞ্জের অন্দরে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল বামপন্থী ও শ্রমিক-অনুকূল নীতি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত 'পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরাম'-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচনে বিরোধী এবং বাম ভাবধারার প্রার্থীদের বিপুল সাফল্য শিল্পী মহলে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, টলিউডের সাধারণ শিল্পীরা এখনও অধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে বামপন্থী বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখছেন।
নির্বাচনে প্রাপ্ত বিশেষ সাফল্য
এবারের নির্বাচনে অভিনেতা চন্দন সেন যুগ্ম সম্পাদক (Joint Secretary) পদে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে, অভিনেতা দেবদূত ঘোষ সহকারী সম্পাদক (Assistant Secretary) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন কমিটিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, চন্দন সেন এবং দেবদূত ঘোষ দুজনেই দীর্ঘকাল ধরে বামপন্থী আদর্শ ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে রাজপথে এবং শিল্প ক্ষেত্রে সরব। তাদের এই জয় আদতে 'তৃণমূল-বিরোধী' ও 'শ্রমিক স্বার্থবান্ধব' রাজনীতির জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ একনজরে:
| পদ | নাম |
| সভাপতি | রঞ্জিত মল্লিক |
| কার্যকরী সভাপতি | প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় |
| সাধারণ সম্পাদক | শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় |
| যুগ্ম সম্পাদক | চন্দন সেন ও শুভাশিস মিত্র |
| সহকারী সম্পাদক | দেবদূত ঘোষ ও আবির চট্টোপাধ্যায় |
| কোষাধ্যক্ষ | বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় |
কেন এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ?
ফোরামের সাধারণ সদস্যদের মতে, গত কয়েক বছরে স্টুডিও পাড়ায় রাজনৈতিক দখলদারি এবং স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল, এই ফলাফল তারই প্রতিফলন। পেনশন, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা এবং ন্যায্য পারিশ্রমিকের দাবিতে চন্দন সেনরা বরাবরই আপসহীন। নতুন কমিটি এখন দায়িত্ব গ্রহণের পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কাস্টিং ও পোর্টফোলিও তৈরির ক্ষেত্রে শিল্পীদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিপুল ভোটে জয়ী সকল শিল্পীদের জানাই উষ্ণ অভিনন্দন। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই শক্তিশালী কমিটি টলিউডের সাধারণ কর্মীদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলি সমাধানে এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঠিক কী কী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


