তেহরান ব্যুরো — মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে এবং ইরানের ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়ে অঞ্চলটিতে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে "উসকানিমূলক" এবং "আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওয়াশিংটনের কোনো প্রকার "অন্যায্য চাপ" বা "হুমকির মুখে" তারা মাথানত করবে না।
সামরিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর ঘোষণা দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডাররা জানিয়েছেন, তাদের "আঙুল ট্রিগারের ওপর রয়েছে"। তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাব হবে "তৎক্ষণাৎ এবং বিধ্বংসী"।
"ক্ষমতা পরিবর্তন" ও সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা
ট্রাম্পের মন্তব্য যে, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই হবে "সেরা ঘটনা", তাকে তেহরান দেখছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে বলেন:
"ওয়াশিংটন গত ৪৭ বছর ধরে আমাদের ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখে আসছে, কিন্তু ইরানের জনগণ প্রতিবারই তাদের সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। যুদ্ধের হুমকি দিয়ে আমাদের পরমাণু কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিচ্যুত করা যাবে না।"
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই 'ম্যাক্সিমাম প্রেসার' বা সর্বোচ্চ চাপের নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেবল ইরান নয়, তুরস্ক এবং কাতারের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও এই সামরিক সমাবেশের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, কোনো চুক্তি আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত, রণতরীর ভয় দেখিয়ে নয়।
মূল পয়েন্টগুলো:
তেহরানের অনড় অবস্থান: ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো শর্তাধীন আপস করবে না।
বিপ্লব বার্ষিকীর বার্তা: গত ১১ই ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বার্ষিকীর জনসভায় লাখো মানুষ "আমেরিকা নিপাত যাক" স্লোগান দিয়ে মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ছায়াযুদ্ধের হুমকি: ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি তাদের ওপর হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের মিত্ররা নিরাপদ থাকবে না।


