নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। ৪ এবং ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল— মহার্ঘ ভাতা (DA) কোনো দয়া বা করুণা নয়, বরং এটি সার্ভিস রুলস অনুযায়ী কর্মচারীদের একটি সুনিশ্চিত আইনি অধিকার।
এই ঐতিহাসিক রায়ের পেছনে পাহাড়প্রমাণ অবদান রেখেছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তাঁর লিগ্যাল টিম। কোনো আর্থিক পারিশ্রমিক ছাড়াই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের হয়ে এই দীর্ঘ ও জটিল মামলাটি লড়ে তাঁরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশসমূহ:
অধিকার বনাম দাক্ষিণ্য: আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, সার্ভিস রুলস নোটিফায়েড হওয়ার পর সরকার আর্থিক সংকটের অজুহাতে ডিএ আটকে রাখতে পারে না। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে।
নির্দিষ্ট সময়সীমা: আগামী ৬ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে বকেয়ার পূর্ণাঙ্গ হিসেব সম্পন্ন করতে হবে এবং ওই তারিখের মধ্যেই অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
প্রথম কিস্তির অর্থপ্রদান: বকেয়া পাওনার প্রথম কিস্তি আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও তাঁর টিমের ভূমিকা:
রাজ্য সরকার যখন জাতীয় স্তরের দামী আইনজীবীদের পেছনে জনগণের করের টাকা খরচ করে মামলাটি দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছিল, তখন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তাঁর সহকর্মীরা সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে কোনো ফি ছাড়াই এই 'প্রো-বোনো' লড়াই চালিয়ে গেছেন। আইন মহলের মতে, বিকাশ ভট্টাচার্যের যুক্তিপূর্ণ সওয়ালই আদালতকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে যে, ডিএ-র দাবি 'আর্বিট্রেটি' বা খামখেয়ালিভাবে খারিজ করা যায় না।
এই রায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ২০ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনভোগীকে স্বস্তি দেবে না, বরং সারা ভারতের সরকারি কর্মচারীদের কাছে একটি বড় আইনি হাতিয়ার হয়ে থাকবে।


