" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory আদালতের চাবুক, রাজপথে ক্ষোভ: বকেয়া DA-র দাবিতে উত্তাল ধর্মতলা, কোনঠাসা মমতা সরকার //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

আদালতের চাবুক, রাজপথে ক্ষোভ: বকেয়া DA-র দাবিতে উত্তাল ধর্মতলা, কোনঠাসা মমতা সরকার

 



নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পরও টনক নড়েনি নবান্নের। বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে আজ ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার ধর্মতলা চত্বর। দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিবাদে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর ডাকা মহামিছিলে স্তব্ধ হয়ে গেল তিলোত্তমা। একদিকে যখন সর্বোচ্চ আদালত DA-কে ‘আইনি অধিকার’ বলে মান্যতা দিচ্ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ‘তহবিল নেই’ অজুহাতে মাসের পর মাস কর্মীদের প্রাপ্য আটকে রাখায় ক্ষোভের আগুন এখন দাবানলের আকার নিয়েছে।

পুলিশি ব্যারিকেড বনাম কর্মীদের জেদ

এদিন আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য ছিল হাজরা পার্ক পর্যন্ত পদযাত্রা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় নিজেদের দাবি পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছাতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ সহ শহরের প্রধান রাস্তাগুলি দীর্ঘক্ষণ যানজটে অবরুদ্ধ থাকে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট প্রশ্ন— "সুপ্রিম কোর্ট ৫ই ফেব্রুয়ারির নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে ৬ই মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি মেটাতে হবে, তবুও কেন সরকার নীরব?"

মমতা সরকারের ‘টালবাহানা’ ও আদালতের কড়া অবস্থান

দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হার থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ পিছিয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০২৬-এর সুপ্রিম কোর্ট রায় ছিল এক ঐতিহাসিক জয়। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে:

  • আর্থিক অনটন অজুহাত নয়: সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য DA মেটাতে আর্থিক অভাবের দোহাই দেওয়া চলবে না।

  • ২৫% বকেয়া অবিলম্বে প্রদান: ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • মার্চ ৩১-এর ডেডলাইন: বাকি ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি ৩১শে মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিয়ে ১৫ই এপ্রিলের মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে।



বঞ্চনার পাহাড় বনাম উন্নয়নের ঢাক

রাজ্য সরকার যখন বিভিন্ন মেলা, উৎসব এবং খয়রাতি প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে, তখন শিক্ষিত সরকারি কর্মচারীদের আইনি পাওনা মেটাতে কেন এই অনীহা? এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের কোণে কোণে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার আদালত অবমাননা করছে। সরকার নিযুক্ত কমিটি (প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে) বকেয়া নির্ধারণ করলেও, নবান্ন আদতে সময় নষ্ট করার রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

"আমরা দয়া চাইছি না, আমাদের অধিকার চাইছি। আদালত নির্দেশ দেওয়ার পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যদি আমাদের সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটে, তবে আগামীতে রাজ্য প্রশাসন অচল করে দেওয়া হবে।" — সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এক নেতা।


৬ই মার্চের সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের অবমাননার খাঁড়া, অন্যদিকে রাজপথে হাজার হাজার কর্মীর গর্জন— সব মিলিয়ে তৃণমূল সরকার এখন কার্যত দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায়। এখন দেখার, আদালত অবমাননার হাত থেকে বাঁচতে মুখ্যমন্ত্রী শেষ মুহূর্তে পিছু হটেন কি না।


Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies