কলকাতা: আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন সিপিআইএম-এর এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, শমীক লাহিড়ী এবং তরুণ নেত্রী আফরিন বেগম।
ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ
বৈঠকের শুরু থেকেই ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের কাছে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন বাম নেতারা। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শমীক লাহিড়ী বলেন, "নামের বানানে সামান্য ভুলের জন্য অনেক জায়গায় বড় অংশের ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এটি এক ধরনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"
সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সাথে আলোচনার সময় বাম প্রতিনিধিরা রাজ্যে এক দফায় অথবা সর্বোচ্চ দুই দফায় ভোট করানোর দাবি জানান। মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, "তৃণমূল ঘনিষ্ঠ একদল আধিকারিক এবং পুলিশ কর্মীদের ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় এই বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার আগে কমিশনকে নিজেদের সাংবিধানিক মর্যাদা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হবে।"
নতুন ভোটারদের অধিকার
প্রতিনিধি দলের সদস্য আফরিন বেগম তরুণ ভোটারদের প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বিপুল সংখ্যক তরুণ যারা ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন, তাঁদের নাম কেন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে সমস্যা হচ্ছে? কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রান্তিক ও আদিবাসী অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ যেন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।"
কমিশনের ভূমিকা
বৈঠক শেষে মহম্মদ সেলিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কমিশন যেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ না নেয়। তাঁর কথায়, "কমিশন স্বীকার করেছে যে কিছু আধিকারিকের গাফিলতি ছিল। আমরা চাইছি সেই সমস্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভোটিং প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করা হোক।"
নির্বাচন কমিশন বাম প্রতিনিধিদের দাবিগুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ভোটের আগে এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল।


