তেহরান, ইরান: প্রযুক্তির এই যুগে যখন সারাবিশ্ব ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল, তখন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-চালিত সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে বাঁচতে পুরো দেশকে ইন্টারনেট জগত থেকে বিচ্ছিন্ন বা ‘অফলাইন’ করে দিয়েছে দেশটি। একে বলা হচ্ছে একটি ‘ট্যাকটিক্যাল ব্ল্যাকআউট’ বা কৌশলগত অন্ধকার।
কেন এই চরম পদক্ষেপ?
ভিডিওর দাবি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধ এখন কেবল গোলাবারুদে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অ্যালগরিদমিক যুদ্ধ’।
ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে ডিজিটাল তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। মাত্র একটি খুদে বার্তা, জিপিএস লোকেশন কিংবা ঘরের ওয়াইফাই সিগন্যাল ব্যবহার করে এআই কোনো ব্যক্তির নিখুঁত স্থানাঙ্ক (Coordinates) বের করে সেখানে মিসাইল হামলা চালাতে সক্ষম। এই ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই ইরান ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পথ বেছে নিয়েছে।
জনসাধারণ বনাম শাসকগোষ্ঠী
এই ব্ল্যাকআউটের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। লাখ লাখ বেসামরিক মানুষ বর্তমানে বহিবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তবে ভিডিওতে একটি বৈষম্যের চিত্রও উঠে এসেছে:
সাধারণ নাগরিক: সম্পূর্ণ অন্ধকার এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায়।
সরকারি উচ্চপদস্থ মহল: তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ ‘ভিআইপি ইন্টারনেট’ বা হোয়াইট-লিস্টেড নেটওয়ার্ক। এটি একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং এনক্রিপ্টেড ব্যবস্থা, যা শুধুমাত্র সামরিক বাহিনী এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ব্যবহার করতে পারছেন।
এআই-এর বিরুদ্ধে নতুন বর্ম?
ইরানের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এআই-এর কাছে কোনো তথ্য না পৌঁছালে সে ‘শিকার’ করতে পারে না। ইন্টারনেট বন্ধ করার মাধ্যমে তারা আসলে শত্রুদেশের রাডার এবং ট্র্যাকিং সিস্টেমকে ‘অন্ধ’ করে দিচ্ছে। এর ফলে জেনারেলদের অবস্থান বা গোপন বাঙ্কারগুলোর হদিস পাওয়া এআই-এর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি যখন মরণাস্ত্রে রূপ নেয়, তখন তার থেকে বাঁচতে আদিম যুগে ফিরে যাওয়াই কি একমাত্র উপায়? ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তিবিদদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।


