কুয়েত সিটি | ১১ মার্চ, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা চরম রূপ ধারণ করেছে। কুয়েতে মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান হেলিকপ্টার ঘাঁটি আল-উদাইরি (Al-Udairi)—যা বর্তমানে ক্যাম্প বুহরিং (Camp Buehring) নামে পরিচিত—ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)-এর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
কী দেখা গেছে স্যাটেলাইট চিত্রে?
আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষকদের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে:
রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস: ঘাঁটির প্রধান হেলিকপ্টার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি বিধ্বস্ত।
জ্বালানি মজুদ কেন্দ্রে আগুন: ঘাঁটির বিশাল জ্বালানি স্টোরেজ ট্যাংকে আঘাত হানার ফলে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার ধোঁয়ার কুণ্ডলী কয়েক মাইল দূর থেকেও দেখা গেছে।
কমান্ড সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত: ঘাঁটির প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা কমান্ড বিল্ডিংটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
হেলিকপ্টার ও রানওয়ে: বেশ কিছু হেলিকপ্টার এবং সেগুলোর উড্ডয়ন ক্ষেত্র বা র্যাম্পগুলোতেও আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট।
ইরানের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি
ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী IRGC এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই 'হাইব্রিড অপারেশন' চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, কুয়েত থেকে পরিচালিত মার্কিন সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিলেও কিছু আঘাত এড়ানো সম্ভব হয়নি। এই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন ও কুয়েতি সেনা সদস্য হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক প্রভাব
আল-উদাইরি ঘাঁটিটি ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমান কার্যক্রমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি অকেজো হয়ে পড়ায় এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর রসদ সরবরাহ এবং আকাশপথের নজরদারি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।




