নিজস্ব প্রতিনিধি, ফাঁসিদেওয়া: আসন্ন ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই দার্জিলিং জেলার ২৭-ফাঁসিদেওয়া (ST) কেন্দ্রে লড়াইয়ের ময়দান ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে এক ত্রিমুখী লড়াইয়ে। একদিকে শাসক দল তৃণমূলের রীনা টোপ্পো এক্কা ও বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক দুর্গা মুর্মু, অন্যদিকে বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিআই(এমএল) লিবারেশন প্রার্থী কমরেড সুমন্তি এক্কা। বাম শিবিরের এই 'ঐক্যবদ্ধ লড়াই' উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে চা-বাগান ও জমি
ফাঁসিদেওয়া ও খড়িবাড়ি ব্লক নিয়ে গঠিত এই গ্রামীণ আসনে ভোটারদের একটা বড় অংশ আদিবাসী ও 'টি-ট্রাইব' সম্প্রদায়। বাম শিবিরের দাবি, গত কয়েক বছরে বিজেপি ও তৃণমূল উভয়েই চা-শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছে। সুমন্তি এক্কার প্রচারে প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে:
ন্যূনতম মজুরি: চা-বাগানে বিধিবদ্ধ ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করা।
জমির পাট্টা: বছরের পর বছর বসবাস করলেও নিজস্ব জমির অধিকার না পাওয়া শ্রমিকদের পাট্টা প্রদান।
পিএফ ও গ্র্যাচুইটি: বন্ধ ও অসুস্থ বাগানগুলোর শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা মেটানো।
কেন সুমন্তি এক্কা?
সুমন্তি এক্কা নিজে একজন অভিজ্ঞ চা-শ্রমিক সংগঠক। ২০২১-এর নির্বাচনেও তিনি এই কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন। সেই সময়কার অভিজ্ঞতা এবং সারা বছর মাটির মানুষের সঙ্গে থেকে আন্দোলন গড়ে তোলার সুবাদেই বামফ্রন্ট এবারও তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে। জোটের শরিক হিসেবে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনকে রাজ্যজুড়ে ১০টি আসন ছাড়া হয়েছে, যার মধ্যে ফাঁসিদেওয়া অন্যতম 'পাখির চোখ'।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ
২০২১ সালে বিজেপি প্রার্থী প্রায় ২৭ হাজার ভোটে জয়ী হয়ে এই আসনটি তৃণমূল ও কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল এবং বর্ষাকালে পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ কাজ হয়নি। এই 'অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি' ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন 'তিন তারা' চিহ্নে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছে।
বাম বিকল্পের স্লোগান
সিপিআই(এম) ও লিবারেশনের যৌথ পদযাত্রাগুলোতে শোনা যাচ্ছে— "বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও; তৃণমূল হটাও, বাংলা বাঁচাও।" বামেদের দাবি, দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত ও চা-শ্রমিকদের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সুমন্তি এক্কাই উপযুক্ত প্রতিনিধি।
নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। এখন দেখার বিষয়, চা-বাগানের 'লাল ঝাণ্ডা' আর 'তিন তারা' কি পারবে বিজেপির গড় ভেঙে ফাঁসিদেওয়ার মসনদ দখল করতে?


