নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর | ১৮ মার্চ, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষত দুর্গাপুর পূর্ব (২৭৬) কেন্দ্রে শাসক ও বিরোধী শিবিরের লড়াই এখন এক অনন্য মোড় নিয়েছে। একদিকে রাজ্যের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিদায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, আর অন্যদিকে সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ভূমিপুত্র তথা প্রথিতযশা শ্রমিক নেতা সীমান্ত চ্যাটার্জি।
সমবায় দপ্তরের ভূমিকা ও প্রদীপ মজুমদারের রিপোর্ট কার্ড
প্রদীপ মজুমদার সমবায় দপ্তরের দায়িত্বে থাকাকালীন এই ক্ষেত্রটির সংস্কার ও আধুনিকীকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও, মাঠপর্যায়ে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন বিশ্লেষকরা।
আর্থিক স্থবিরতা: সমবায় ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান Gross NPA (অনুৎপাদক সম্পদ) এবং গ্রামীণ ঋণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
গণতান্ত্রিক অবক্ষয়: মন্ত্রীর কার্যকালে সমবায় ব্যাংক ও ক্রেডিট সোসাইটিগুলোর নির্বাচনে ব্যাপক অশান্তি এবং ‘মসল পাওয়ার’ বা পেশীবল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ভয় প্রদর্শন ও পেশীবল প্রয়োগের মাধ্যমেই সমবায়গুলোতে তৃণমূলের আধিপত্য কায়েম করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলের ‘ঘরের ছেলে’ বনাম ‘ভিআইপি’ ভাবমূর্তি
সিপিআই(এম) প্রার্থী সীমান্ত চ্যাটার্জির মনোনয়ন দুর্গাপুর পূর্বের লড়াইকে ‘আসল দুর্গাপুরিয়ান’ বনাম ‘বহিরাগত’ বা ‘দূরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব’-এর লড়াইয়ে পরিণত করেছে।
শ্রমিক সংযোগ: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সীমান্ত চ্যাটার্জির ভাবমূর্তি অত্যন্ত স্বচ্ছ।
বিপরীতমুখী অবস্থান: প্রদীপ মজুমদারের প্রশাসনিক দাপটের বিপরীতে সীমান্ত চ্যাটার্জির মাটির কাছাকাছি অবস্থান ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাম শিবিরের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“দুর্গাপুর এখন সিন্ডিকেট রাজ আর সমবায় ব্যাংকের টাকা লুটের বিরুদ্ধে জবাব দিতে প্রস্তুত। মানুষ পেশীবল নয়, অধিকারের লড়াই চায়।” — সীমান্ত চ্যাটার্জি (সিপিআইএম প্রার্থী)
২০২৬ নির্বাচনের প্রধান ইস্যুসমূহ:
১. সমবায় আর্থিক সংকট: সমবায় ব্যাংকগুলোর জরাজীর্ণ দশা ও আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ।
২. গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার: সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলের একতরফা আধিপত্য ও ‘হুলিগানিজম’-এর বিরুদ্ধে জনরোষ।
৩. শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন: সিন্ডিকেট রাজের অবসান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলোর ভবিষ্যৎ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত: ২০২১-এর নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূলের জয় সহজ হলেও, ২০২৬-এ শ্রমিক অসন্তোষ এবং সমবায় দুর্নীতির ইস্যু প্রদীপ মজুমদারের জয়ের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে। সীমান্ত চ্যাটার্জির মতো একজন ‘অর্গানাইজার’ ও শ্রমিক নেতাকে সামনে রেখে বামেরা যে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তা শাসক দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিস্তারিত খবরের জন্য লগ ইন করুন:


