নিজস্ব প্রতিবেদন | কলকাতা
নির্বাচন কমিশন রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে যে আপসহীন মনোভাব নেবে, তার প্রমাণ মিলল বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। রবিবার রাতে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রশাসনিক রদবদল ও নতুন নিয়োগ
১৫ মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে ইসি। এর পরপরই পৃথক চিঠিতে কমিশন বর্তমান শীর্ষ দুই আমলাকে অপসারণের নির্দেশ দেয়। শূন্যপদে নতুন নিয়োগও সেরে ফেলেছে কমিশন:
নতুন মুখ্যসচিব: দুষ্যন্ত নারিয়ালা।
নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব (Home & Hill Affairs): সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ।
কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, নতুন দুই অফিসারকে অবিলম্বে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে যাতে নির্বাচনকালীন পুরো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সরাসরি কমিশনের পর্যবেক্ষণে থাকে।
কেন এই চরম পদক্ষেপ?
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত হঠকারী নয়। এর পিছনে দীর্ঘদিনের কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে:
১. ভোটার তালিকা নিয়ে সংঘাত: গত কয়েক মাস ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিশেষ সারসংক্ষেপ পুনর্বিবেচনা (SIR) নিয়ে কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের টানাপোড়েন চলছিল। তিনজন আইএএস অফিসারসহ একাধিক ভোটার রোল অবজার্ভারের বদলি নিয়ে কমিশন আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
২. নির্দেশ অমান্য: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা ইসি-র নির্দেশ অগ্রাহ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রশাসনের শীর্ষস্তরের বিরুদ্ধে জমা পড়েছিল।
৩. নিরপেক্ষতার অভাব: কমিশনের চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনিক যন্ত্রকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখতেই এই বদলি 'অপরিহার্য'।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
ভোটের মুখে জেলা শাসক বা পুলিশ সুপারদের বদলি করা কমিশনের একটি চেনা পদ্ধতি। কিন্তু একই রাতে রাজ্যের সর্বোচ্চ দুই পদাধিকারী—মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে একযোগে সরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত বিরল এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর মাধ্যমে কমিশন রাজ্য প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিল যে, ভোট পরিচালনায় বিন্দুমাত্র শিথিলতা বা পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না।
বর্তমান স্থিতি: নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা আজ বিকেলের মধ্যেই চার্জ বুঝে নেবেন বলে সচিবালয় সূত্রে খবর।


