নিজস্ব প্রতিবেদক | কলকাতা ১২ মার্চ, ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, আমাদের মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত পিনিয়াল গ্ল্যান্ড (Pineal Gland) বা 'তৃতীয় নয়ন'-কে নিষ্ক্রিয় করতে পরিকল্পিতভাবে জল ও টুথপেস্টে ফ্লুরাইড মেশানো হচ্ছে। ভিডিওটিতে একে 'মাস মাইন্ড কন্ট্রোল' বা জনমানস নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
দাবির প্রেক্ষাপট
ভিডিওর তথ্যানুযায়ী, পিনিয়াল গ্ল্যান্ড কেবল একটি হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থি নয়, বরং এটি একটি জৈবিক চক্ষু। প্রাচীন ভারতীয় যোগশাস্ত্র এবং মিশরীয় সভ্যতায় একে উচ্চতর চেতনার প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য করা হতো। অভিযোগ করা হয়েছে যে, 'ইলুমিনাতি' বা বিশ্বনেতাদের একটি গোপন গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের এই বিশেষ সক্ষমতাকে ধ্বংস করতে ফ্লুরাইড ব্যবহার করছে, যা মস্তিষ্কের এই অংশটিকে ক্যালসিফায়েড বা পাথরে পরিণত করে।
বিজ্ঞান কী বলছে?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, পিনিয়াল গ্ল্যান্ড মূলত মেলাটোনিন হরমোন তৈরি করে যা আমাদের ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। এটি সত্য যে অতিরিক্ত ফ্লুরাইড সেবনের ফলে পিনিয়াল গ্ল্যান্ডে ক্যালসিয়াম জমা হতে পারে, তবে এর সাথে 'মাইন্ড কন্ট্রোল' বা অতিপ্রাকৃত শক্তির সংযোগের কোনো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
জল ও টুথপেস্টে ফ্লুরাইড: অধিকাংশ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে দাঁতের ক্ষয়রোধে জলের স্তর এবং টুথপেস্টে নির্দিষ্ট মাত্রায় ফ্লুরাইড ব্যবহার করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই মাত্রাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছে।
ক্যালসিফিকেশন: বয়স বাড়ার সাথে সাথে পিনিয়াল গ্ল্যান্ডে ক্যালসিফিকেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।
বিশেজ্ঞদের মত
মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের ভিডিও সাধারণত 'কনস্পিরেসি থিওরি' বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি মানুষের মনে বিভ্রান্তি এবং ভীতি সৃষ্টি করতে পারে। ভিডিওটিতে সুস্থ জীবনধারার জন্য ধ্যান (Meditation) ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কথা বলা হলেও, ফ্লুরাইড নিয়ে করা দাবিগুলো অত্যন্ত বিতর্কিত।
জনসাধারণকে যেকোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার এবং টুথপেস্ট বা পানীয় জলের ক্ষেত্রে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


