বার্লিন: জার্মানির অটোমোবাইল শিল্পের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ভক্সওয়াগেন (Volkswagen) গ্রুপ ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০,০০০ কর্মী ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ২০২৫ সালে কোম্পানির মুনাফা প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ায় এই কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, নিরাপত্তা শঙ্কায় ইরাকের বাগদাদ দূতাবাস থেকে নিজেদের কর্মী সরিয়ে নিয়েছে জার্মানি।
ভক্সওয়াগেনের মুনাফায় ধস ও কর্মী ছাঁটাই
ভক্সওয়াগেন জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের নিট মুনাফা ৪৪% কমে গিয়ে প্রায় ৬.৯ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে কোম্পানির সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স।
মূল কারণসমূহ:
ইভি (EV) বাজারে মন্দা: ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা কমে যাওয়া।
চীনা প্রতিযোগিতা: চীনা গাড়ি নির্মাতাদের থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মার্কিন শুল্ক: অ-আমেরিকান গাড়ি নির্মাতাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব।
কোম্পানির সিইও অলিভার ব্লুম জানিয়েছেন, মুনাফা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে জার্মানির বিভিন্ন বিভাগ ও ব্র্যান্ড (যেমন: আউডি, পোরশে, সিট এবং স্কোডা) থেকে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালে ৩৫,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাড়িয়ে ৫০,০০০ করা হয়েছে।
বাগদাদ দূতাবাস থেকে কর্মী প্রত্যাহার
একই দিনে জার্মানি সরকার নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাগদাদে তাদের দূতাবাস থেকে সাময়িকভাবে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন সাপেক্ষে কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালু করা হবে। আপাতত কর্মীদের সুরক্ষাই বার্লিনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এক নজরে মূল তথ্যসমূহ
| বিষয় | বিবরণ |
| ছাঁটাইয়ের সংখ্যা | ৫০,০০০ কর্মী (২০৩০ সালের মধ্যে) |
| মুনাফায় হ্রাস | ৪৪% (৬.৯ বিলিয়ন ইউরো) |
| আক্রান্ত ব্র্যান্ডসমূহ | VW, Audi, Porsche, Cariad |
| কূটনৈতিক পদক্ষেপ | বাগদাদ থেকে কর্মী প্রত্যাহার |


