আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে আলবার্ট আইনস্টাইন এক অবিস্মরণীয় নাম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঐতিহাসিক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে— আইনস্টাইনের শুরুর দিকের যুগান্তকারী আবিষ্কারগুলোতে কি তার প্রথম স্ত্রী মিলেভা মারিচের কোনো অবদান ছিল?
মিলেভা মারিচ ছিলেন একজন সার্বীয় পদার্থবিদ ও গণিতবিদ। তিনি জুরিখ পলিটেকনিকে আইনস্টাইনের সহপাঠী ছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের মধ্যে মেধার বিনিময় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯০১ সালে তিনি তার ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন, কিন্তু সেই সময়ে নারী হিসেবে বিজ্ঞান চর্চায় তাকে অনেক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
বিতর্কের মূল কারণ:
অনেক গবেষক মনে করেন, ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের বিখ্যাত ‘অ্যানাস মিরাবিলিস’ (Annus Mirabilis) গবেষণাপত্রগুলো, বিশেষ করে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special Relativity) তৈরিতে মিলেভার গাণিতিক সহায়তা বা যৌথ গবেষণার ভূমিকা ছিল। তাদের ব্যক্তিগত চিঠিপত্রে আইনস্টাইন বেশ কয়েকবার ‘আমাদের কাজ’ বা ‘আমাদের গবেষণা’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, যা এই জল্পনাকে আরও উসকে দেয়।
ভ্লাদিমির ইয়োফে নামক এক পদার্থবিদের দাবি অনুযায়ী, শুরুর দিকের কিছু পাণ্ডুলিপিতে ‘আইনস্টাইন-মারিচ’ নামে দুজনেরই স্বাক্ষর ছিল। তবে অধিকাংশ মূলধারার ঐতিহাসিকদের মতে, এর সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই।
স্বাধীন কোনো আবিষ্কার নেই:
মিলেভা মারিচ ব্যক্তিগতভাবে কোনো স্বাধীন বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেননি। ১৯০৩ সালে বিয়ের পর এবং সন্তান হওয়ার পর তার চিঠিপত্রগুলোতে বিজ্ঞানের চেয়ে পারিবারিক বিষয়গুলোই বেশি প্রাধান্য পায়। ১৯০১ সালের পর তার নতুন কোনো মৌলিক বৈজ্ঞানিক চিন্তার রেকর্ড পাওয়া যায় না।
বিজ্ঞান বিশ্বের বড় একটি অংশের মতে, মিলেভা আইনস্টাইনের একজন অত্যন্ত মেধাবী সঙ্গী ও সহযোগী ছিলেন, তবে তাকে কোনো নির্দিষ্ট বড় তত্ত্বের ‘উদ্ভাবক’ বা ‘আবিষ্কারক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ এখনো মেলেনি। মূলত নারী হিসেবে তৎকালীন প্রতিকূল সমাজব্যবস্থা এবং পারিবারিক চাপের কারণে এই মেধাবী নারীর সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।
বর্তমানে মিলেভা মারিচকে বিজ্ঞানের ইতিহাসে একজন ‘বিস্মৃত প্রতিভা’ হিসেবে দেখা হয়, যিনি হয়তো আইনস্টাইনের সাফল্যের নেপথ্যে এক নীরব কারিগর ছিলেন।


