আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাতে সরাসরি হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি।
ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপদে চলাচলের জন্য মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন বা 'এসকর্ট' করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে উপহাস করে বলেন:
"তেলবাহী ট্যাঙ্কার এসকর্ট করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সুবিধার্থে মার্কিন বাহিনীর কথিত উপস্থিতিকে ইরান জোরালোভাবে স্বাগত জানায়। আমরা অধীর আগ্রহে তাদের আগমনের প্রতিক্ষা করছি।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নায়েইনির এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রকে একপ্রকার সরাসরি যুদ্ধের আমন্ত্রণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


