নয়াদিল্লি: এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) বা পিএফ অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অলস টাকা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় ট্রাস্টি বোর্ড। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩১.৮৩ লক্ষ ইনঅপারেটিভ বা অচল অ্যাকাউন্টে মোট ১০,১৮১ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে।
পরিসংখ্যানের এক নজরে:
বিপুল এই অর্থের একটি বড় অংশই সাধারণ এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
দীর্ঘসূত্রিতা: প্রায় ৪১% অ্যাকাউন্ট ৫-১০ বছর ধরে অচল এবং প্রায় ২২% অ্যাকাউন্ট ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে।
ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী: মোট অচল অ্যাকাউন্টের প্রায় ৯২.৪৪% ক্ষেত্রেই জমানো টাকার পরিমাণ ৫০,০০০ টাকার নিচে।
উচ্চ মূল্যের অ্যাকাউন্ট: মাত্র ০.৩৯% অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ টাকার বেশি রয়েছে, যার মোট পরিমাণ ৪,৫৫৩.৫৭ কোটি টাকা।
কেন এই অচলাবস্থা?
সাধারণত চাকরি পরিবর্তন বা অবসর গ্রহণের পর অনেক সময় সদস্যরা তাদের পিএফ-এর টাকা তুলতে পারেন না। ব্যুরোক্র্যাটিক জটিলতা, সঠিক তথ্যের অভাব এবং পোর্টালের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের এই টাকাগুলো সিস্টেমে আটকে থাকে।
সমাধানের পথে EPFO: অটো-সেটেলমেন্ট
এই সমস্যা সমাধানে EPFO এখন 'অটো-সেটেলমেন্ট' (Auto-settlement) প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুবিধা: যে সব অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, সেই টাকা সরাসরি গ্রাহকের আধার-সংযুক্ত (Aadhaar-linked) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
কাগজপত্রহীন প্রক্রিয়া: এর জন্য গ্রাহককে আলাদা করে কোনো আবেদন বা কাগুজে নথিপত্র জমা দিতে হবে না।
পাইলট প্রজেক্ট: প্রাথমিকভাবে ১,০০০ টাকা বা তার কম ব্যালেন্স থাকা ১.৩৩ লক্ষ অ্যাকাউন্ট দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সফল হলে ধাপে ধাপে বাকি অ্যাকাউন্টগুলোও এর আওতায় আসবে।
আমার মত: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর পোর্টালের সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের টাকা আটকে থাকা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। EPFO-র এই স্বয়ংক্রিয় উদ্যোগ সঠিক সময়ে নেওয়া একটি ইতিবাচক সংস্কার। এটি বাস্তবায়ন হলে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের প্রাপ্য টাকা কোনো হয়রানি ছাড়াই ফিরে পাবেন।


