কাবুল, আফগানিস্তান — আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন কৌশলগত ও বেসামরিক স্থাপনায় পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
হামলার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত রাতে কাবুলের দারুল আমান, আরজান কিমাত, খয়রখানা এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
ক্ষয়ক্ষতি: তালেবান প্রশাসনের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও তৎসংলগ্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সামরিক তৎপরতা: হামলার পর থেকে কাবুলের আকাশে ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন আকাশযানের টহল অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কড়া বার্তা দিয়েছেন:
হামিদ কারজাই: সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক রীতির পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ইসলামাবাদকে সতর্ক করে বলেন, "আগ্রাসন চালিয়ে পাকিস্তান তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না; বরং এই ভুল নীতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলবে।"
মোল্লা আবদুস সালাম জাইফ: সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর কার্যক্রমের সাথে তুলনা করে একে "মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেছেন।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ: তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র নিহত বেসামরিক নাগরিকদের ছবি প্রকাশ করে এই হামলাকে একটি "বর্বরোচিত অপরাধ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও সতর্কতা
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন:
"বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে হাসপাতাল ও নিরাময় কেন্দ্রের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা জরুরি।"
এই হামলার ফলে আফগান-পাক সীমান্ত ও কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নজিরবিহীন ফাটল দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও, ধারণা করা হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিদ্রোহী দমনের অজুহাতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।


