কুয়েত সিটি | ২০ মার্চ, ২০২৬ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের দুটি প্রধান তেল শোধনাগার—মিনা আল-আহমাদী (Mina Al-Ahmadi) এবং মিনা আবদুল্লাহ (Mina Abdullah)—ভয়াবহ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই জোড়া হামলার ফলে কুয়েতের তেল শোধন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
১. শোধনাগার কমপ্লেক্সের বর্তমান অবস্থা
কুয়েত ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (KNPC) নিশ্চিত করেছে যে, শুক্রবার ভোরে মিনা আল-আহমাদী শোধনাগারের বেশ কয়েকটি ইউনিটে আগুন লেগে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই নিকটবর্তী মিনা আবদুল্লাহ শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়।
উৎপাদন ক্ষমতা: এই দুটি কমপ্লেক্স মিলিয়ে কুয়েতের দৈনিক প্রায় ৮,০০,০০০ থেকে ১২,০০,০০০ ব্যারেল তেল শোধনের ক্ষমতা রয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি: ড্রোন হামলার ফলে শোধনাগারের বেশ কিছু অপারেশনাল ইউনিট বর্তমানে 'অফলাইন' বা বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২. আর্থিক প্রতিবেদন ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে:
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): লন্ডনের আইসিই (ICE) ফিউচার মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম।
গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য: ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া জেট ফুয়েল ও ডিজেলের মতো পরিশোধিত পণ্যের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জিডিপি প্রভাব: কুয়েতের জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং রপ্তানি আয়ের ৯০ শতাংশই আসে হাইড্রোকার্বন খাত থেকে। এই দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন ঘাটতি কুয়েতের জাতীয় রাজস্বে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
গোল্ডম্যান স্যাকস (Goldman Sachs) এবং উড ম্যাকেঞ্জি (Wood Mackenzie)-র বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধুমাত্র কুয়েতের সমস্যা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী: মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ: বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, যদি এই হামলা অব্যাহত থাকে তবে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
৪. সরকারি পদক্ষেপ
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (KPC) জানিয়েছে যে, অগ্নিনির্বাপক দলগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। নিরাপত্তার খাতিরে কুয়েতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


