নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: টেনিস কোর্টে তাঁর ক্ষিপ্রতা বিশ্ববন্দিত, কিন্তু রাজনীতির ময়দানে তাঁর বারবার ‘কোর্ট’ পরিবর্তন নিয়ে এবার বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ২০২১-এ ঘাসফুল, আর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে পদ্ম—লিয়েন্ডার পেজের এই দ্রুত রাজনৈতিক রং বদলকে ‘আদর্শহীন সুবিধাবাদ’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
‘পলিটিক্যাল টুরিস্ট’ তকমা?
লিয়েন্ডারের এই যোগদানকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা একাধিক কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছেন:
সুবিধাবাদী রাজনীতি: ২০২১ সালে গোয়া নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ‘গ্ল্যামার’ বাড়াতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে টিকিট না পাওয়া বা দলের প্রভাব কমার সাথে সাথেই তিনি রাজনীতি থেকে কার্যত উধাও হয়ে যান। আজ ফের নির্বাচনের আগে বিজেপিতে তাঁর এন্ট্রিকে ‘সুযোগসন্ধানী’ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
আদর্শের অভাব: মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দুটি রাজনৈতিক আদর্শে (তৃণমূল ও বিজেপি) নাম লেখানোয় লিয়েন্ডারের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকদের মতে, এটি জনসেবার তাগিদ নয়, বরং ক্ষমতার অলিন্দে থাকার লড়াই।
পার্থিব পরিচিতির অভাব: গতবার গোয়ায় ‘বহিরাগত’ তকমা পাওয়ায় তাঁকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। এবার বাংলাতেও তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ মাঠের বাইরের লিয়েন্ডারের সাথে সাধারণ মানুষের সংযোগ বরাবরই কম।
বিজেপির ‘সেলিব্রিটি কার্ড’ কি ব্যর্থ হবে?
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, বিজেপি লিয়েন্ডারের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ ব্যবহার করতে চাইলেও আদতে তা হিতে বিপরীত হতে পারে:
পুরানো চাল বনাম নতুন গ্ল্যামার: অতীতে দেখা গিয়েছে, অনেক তারকা খেলোয়াড় বা অভিনেতা রাজনীতিতে এসে দ্রুত হারিয়ে গিয়েছেন। লিয়েন্ডারের ক্ষেত্রেও একই আশঙ্কা থাকছে।
তৃণমূলের খোঁচা: তৃণমূল শিবিরের দাবি, লিয়েন্ডার যখন যেখানে সুবিধা দেখেন সেখানেই যান। তাদের মতে, "টেনিস বলের মতো লিয়েন্ডার শুধু ড্রপ খাচ্ছেন, কোনও স্থায়ী মাটি খুঁজে পাচ্ছেন না।"
জনবিচ্ছিন্নতা: অলিম্পিক পদক বা ১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম থাকলেও, মাটির রাজনীতির কঠিন লড়াইয়ে লিয়েন্ডার কতটা ঘাম ঝরাতে পারবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই কানাঘুষো চলছে।
খেলার মাঠ বনাম রাজনীতির ময়দান
টেনিস ইতিহাসে লিয়েন্ডার অমর হলেও, রাজনৈতিক পিচে তাঁর এই ঘনঘন দলবদল তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া প্রেমীদের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলছেন, "কিংবদন্তিদের উচিত রাজনীতির কাদা থেকে দূরে থাকা, নতুবা ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে সম্মানহানির ঝুঁকি থেকে যায়।"
বিজেপির এই ‘তারকা আমদানি’র কৌশল শেষ পর্যন্ত বাংলার ভোটে কতটা ছাপ ফেলবে, নাকি লিয়েন্ডার স্রেফ আরও একজন ‘মৌসুমি রাজনৈতিক’ হয়েই রয়ে যাবেন, তা সময়ই বলবে।


