নাখচিভান, ৫ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরুভূমি ছাড়িয়ে যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার আছড়ে পড়ল ককেশাসের শান্ত জনপদে। আজ দুপুর ১২টার দিকে আজারবাইজানের নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের শক্তিশালী ড্রোন হামলায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং বিমানবন্দরের প্রধান টার্মিনাল ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার নেপথ্যে: কী ঘটেছিল আজ?
আজারবাইজান সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ইরানের অভ্যন্তর থেকে অন্তত তিনটি ঘাতক ড্রোন নাখচিভানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
তদন্তকারীদের ধারণা, হামলায় ইরানের অত্যাধুনিক 'আরাশ-২' (Arash-2) নামক দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
একটি ড্রোন সরাসরি বিমানবন্দরের টার্মিনালে আঘাত হানে, যার ফলে কাঁচের দেয়াল চুরমার হয়ে যায় এবং রানওয়েতে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
অন্য একটি ড্রোন পাশের শাকারাবাদ গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের কাছে বিস্ফোরিত হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সোভিয়েত পরবর্তী রাষ্ট্রে সংঘাত: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া?
আজারবাইজানের ওপর এই হামলাকে অনেকেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি ছোট সংস্করণ বা স্ফুলিঙ্গ হিসেবে দেখছেন। এর কারণগুলো হলো:
ভৌগোলিক বিস্তার: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ এখন আর কেবল গাজা বা লেবাননে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান ইতিমধ্যে দুবাই, আবুধাবি এবং কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতেও আঘাত হেনেছে।
সোভিয়েত বলয়ে প্রবেশ: আজারবাইজান একটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্র। এখানে হামলা চালানোর অর্থ হলো যুদ্ধের ফ্রন্টকে সরাসরি রাশিয়ার দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া।
মিত্রজোটের লড়াই: আজারবাইজানের সাথে ইসরায়েলের গভীর সামরিক সম্পর্ক এবং তুরস্কের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায়, এই হামলায় তুরস্ক বা ন্যাটো জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে।
বাকুর বজ্রকঠোর হুঁশিয়ারি
এই নগ্ন আগ্রাসনের পর আজারবাইজান সরকার বাকুতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব করেছে। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় "প্রয়োজনীয় যেকোনো পাল্টা আঘাত" হানতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইতিমধ্যে ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে আজারবাইজানের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতার নতুন অধ্যায়
ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যে ঐতিহাসিক টানাপোড়েন থাকলেও ২০২৬ সালের এই হামলা সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে আজারবাইজান-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতা এবং কাস্পিয়ান অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের যে তিক্ততা ছিল, তা এখন এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—এই ড্রোন হামলা কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এটি একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক সংঘাতের সূচনা?


