আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মার্চ ১০, ২০২৬
ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ তোমাহক (Tomahawk) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই হামলার দায়ভার নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই হামলা যে কেউ করে থাকতে পারে এবং এর দায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপানো ঠিক হবে না।
ট্রাম্পের বক্তব্য: "এটি যে কারো হতে পারে"
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের ওই স্কুলে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়—যুক্তরাষ্ট্র কি এই ধ্বংসলীলার কোনো দায়ভার গ্রহণ করবে? উত্তরে ট্রাম্প কিছুটা কৌশলী এবং সরাসরি দায় এড়ানোর ভঙ্গিতে কথা বলেন।
তিনি বলেন, "আমি বিষয়টি দেখেছি। তোমাহক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী অস্ত্র। আপনারা জানেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আরও অনেক দেশ ব্যবহার করে। এটি ইরান বা অন্য যে কারো হতে পারে। তোমাহক একটি জেনেরিক নাম এবং এটি অনেক দেশের কাছেই বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে মূলত হামলার দায়ভার অন্য দেশের ওপর চাপানোর একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, যেহেতু এটি একটি সাধারণ উন্নত অস্ত্র, তাই এটি যে আমেরিকার মাধ্যমেই ব্যবহৃত হয়েছে এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।
প্রকৃত তথ্য: তোমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী তোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র "সবার কাছে আছে" বা "যে কারো হতে পারে"—এই তথ্যটি সামরিক এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। তোমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন এবং বিক্রয় প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
উৎপাদন: তোমাহক (Tomahawk) ক্ষেপণাস্ত্র মূলত যুক্তরাষ্ট্রের RTX (সাবেক Raytheon) কোম্পানি অ্যারিজোনার ফিনিক্সে তৈরি করে। এটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল।
সীমিত ক্রেতা তালিকা: ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র এই উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন এবং শক্তিশালী অস্ত্রটি বিশ্বের সব দেশের কাছে বিক্রি করে না। বর্তমানে কেবল হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে:
যুক্তরাজ্য (UK)
অস্ট্রেলিয়া (Australia)
জাপান (Japan)
নেদারল্যান্ডস (Netherlands)
প্রযুক্তির জটিলতা: এই ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করার জন্য অত্যন্ত উন্নত স্যাটেলাইট গাইডেন্স এবং জিপিএস সিস্টেমের প্রয়োজন হয়, যা মূলত মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে যে কেউ চাইলেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে না।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ
একটি বালিকা বিদ্যালয়ে এই ধরনের বিধ্বংসী হামলার ঘটনাকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো "যুদ্ধাপরাধ" হিসেবে গণ্য করছে। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য নিহতের পরিবার এবং ইরানের সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু তোমাহক কেবল যুক্তরাষ্ট্র এবং তার গুটিকয়েক মিত্র দেশের কাছে রয়েছে, তাই এই হামলার উৎস খুঁজে বের করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়।
তদন্ত এখনো চলমান থাকলেও, ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অনেকেই বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। যেখানে উৎপাদনকারী এবং ব্যবহারকারী দেশের তালিকা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, সেখানে "এটি যে কারো হতে পারে" বলাটা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই যাচ্ছে।


