মানামা, বাহরাইন — পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ইরান বাহরাইনের অভ্যন্তরে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে রাজধানী মানামা এবং এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মিলেনিয়াম টাওয়ারে সরাসরি আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতি
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বাহরাইনের রাজধানীর শহরতলী এস-সিফ (Es-Sif) এলাকায়। ড্রোন ও মিসাইল হামলায় সেখানকার আইকনিক মিলেনিয়াম টাওয়ার (Millennium Tower) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টার্গেট: আরব সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বহুতল ভবনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বসবাস করতেন।
ক্ষয়ক্ষতি: ভবনের ১১ তলায় সরাসরি একটি ড্রোন আঘাত হানে। সেখানে 'ক্ল্যারেন্ডন' (Clarendon) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। ভিডিও এবং ছবিতে ভবনের ১১ তলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে।
হতাহত: হামলার পরপরই আহত মার্কিন সেনাদের মানামার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হোটেলগুলোতে বিস্ফোরণ
মিলেনিয়াম টাওয়ার ছাড়াও বাহরাইনের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত মার্কিন ‘দখলদার’ বাহিনীর (ইরানের ভাষ্যমতে) অবস্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ঘাঁটিতে আক্রমণ: বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (U.S. Fifth Fleet) সদর দপ্তরের নিকটবর্তী সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ছোঁড়া হয়েছে।
আতঙ্ক: রাজধানীর বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে, যেখানে বিদেশি সামরিক প্রতিনিধিরা অবস্থান করেন, সেখানে সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র মতে: বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করার চেষ্টা করলেও কয়েকটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকার মধ্যকার চলমান ছায়া যুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যে দেশই আমেরিকাকে তাদের ভূমি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা করার সুযোগ দেবে, তাদেরকেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বাহরাইন যেহেতু মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের মূল কেন্দ্র, তাই এটি এখন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে চলে এসেছে।
এই হামলার পর মানামায় অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলেছে।


