যুক্তরাজ্যের পর এবার অস্ট্রেলিয়াও স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে, ইরানের হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকা অবরোধে তারা অংশ নেবে না।
অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, এই অবরোধে সহায়তার জন্য তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কোনো অনুরোধ আসেনি এবং তারা এমন কোনো অনুরোধ প্রত্যাশাও করেন না। তিনি মার্কিন এই পদক্ষেপকে একটি "একতরফা সিদ্ধান্ত" বলে আখ্যায়িত করেছেন। ক্যানবেরার মতে, এই অবরোধ বিশ্ব বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য মারাত্মক হুমকি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং-এর ব্যাখ্যা
অবরোধে যোগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বেশ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন:
শুধুমাত্র রক্ষনাত্মক পদক্ষেপে সমর্থন: অস্ট্রেলিয়া কেবল 'রক্ষনাত্মক' (defensive) পদক্ষেপে সমর্থন দেবে, কোনো ধরনের আক্রমণ বা অবরোধে নয়।
কূটনীতিতে অগ্রাধিকার: অস্ট্রেলিয়া সরকার সামরিক চাপের পরিবর্তে সর্বদা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে বেশি প্রাধান্য দেয়।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ক্যানবেরাকে এই কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একতরফা সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেবে না।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান
এই একই সংকটের বিষয়ে যুক্তরাজ্যও নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের বৃহত্তর জোট গঠনের যে উদ্যোগ, তা প্রত্যাখ্যানকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই অবরোধে তারা কোনো সহায়তা করবে না।
এই ঘটনার তাৎপর্য
হরমুজ প্রণালী বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। সেখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বা ব্যাঘাত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার এই প্রত্যাখ্যান থেকে এটিই স্পষ্ট হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ পরিকল্পনায় তাদের মিত্র দেশগুলোর সমর্থন একেবারেই সীমিত।


