নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:
দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী কমরেড সীমান্ত চ্যাটার্জির সমর্থনে এক সুবিশাল শোভাযাত্রা ও বর্ণাঢ্য প্রচার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো দুর্গাপুরে। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর রাজপথে কার্যত আছড়ে পড়লো লাল জনসমুদ্র। প্রার্থী সীমান্ত চ্যাটার্জির সমর্থনে আয়োজিত এই মহা মিছিলে এদিন পা মেলালেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখার্জি এবং স্বনামধন্য সাহিত্যিক চন্দন মুখার্জি। বাংলার সংস্কৃতি জগতের এই দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি বাম কর্মী-সমর্থকদের উদ্দীপনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
ইস্পাত নগরীতে জনপ্লাবন
এদিন দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রদক্ষিণ করে এই সুবিশাল পদযাত্রা। হাতে কাস্তে-হাতুড়ি-তারা খচিত লাল পতাকা, ফেস্টুন এবং মুখে গগনভেদী স্লোগান নিয়ে হাজার হাজার বামপন্থী সমর্থক এদিনের মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তীব্র দাবদাহকে উপেক্ষা করেও কর্মী-সমর্থকদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে ছাত্র-যুবদের বিরাট উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয়, দুর্গাপুরের মাটিতে বামপন্থী আন্দোলনের রেশ এখনো কতটা সুদৃঢ়। 'দুর্গাপুর বাঁচাও, শিল্প বাঁচাও' এবং 'কর্মসংস্থান চাই'-এর মতো দাবিগুলো এদিনের মিছিলের মূল সুর বেঁধে দিয়েছিল।
তারকা প্রচারকদের বার্তা
বাম শিবিরের এই প্রচার কর্মসূচিতে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন রাজ্যের দুই বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী—পরিচালক কমলেশ্বর মুখার্জি এবং সাহিত্যিক চন্দন মুখার্জি। হুডখোলা গাড়িতে এবং কখনো সাধারণ মানুষের সাথে পায়ে হেঁটে প্রার্থীর হয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তাঁরা। শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষও তাঁদের হাতের নাগালে পেয়ে আপ্লুত হন।
মিছিল শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে পরিচালক কমলেশ্বর মুখার্জি বলেন, "রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে এবং দুর্গাপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পাঞ্চলের হারানো গরিমা পুনরুদ্ধার করতে বামফ্রন্টের কোনো বিকল্প নেই। মানুষ রুটি-রুজির প্রশ্নে আজ জোটবদ্ধ হচ্ছেন।" অন্যদিকে, সাহিত্যিক চন্দন মুখার্জিও তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের দাবিতে বামেদের লড়াইকে সমর্থন করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানান।
প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি ও আত্মবিশ্বাস
প্রার্থী সীমান্ত চ্যাটার্জি এদিনের মিছিলে সাধারণ মানুষের এই ব্যাপক সাড়া পেয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। প্রচারের ফাঁকে তিনি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বেসরকারিকরণের চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, "শাসক দলের দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির জেরে দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ আজ বীতশ্রদ্ধ। এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, বেহাল পরিকাঠামো এবং বেকারত্ব দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষ যে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে রাস্তায় নামছেন, আজকের এই জনপ্লাবন তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।"
রাজনৈতিক তাৎপর্য
দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। শাসক দল ও অন্যান্য বিরোধীদের কড়া টেক্কা দিতে বামেরা যে দুর্গাপুরের মাটিতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়েছে, এদিনের এই বিশাল মিছিল সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, সমাজের বিশিষ্ট জনদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আগামী দিনে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে ইস্পাত নগরীর এই 'লাল ঝড়' বাম শিবিরের আত্মবিশ্বাসকে যে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।














