নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে দুর্গাপুরের রাজপথে কার্যত ঝোড়ো ইনিংস শুরু করল বামফ্রন্ট। প্রচারের শেষ বেলায় দুর্গাপুরের বুকে আছড়ে পড়ল এক বিশাল জনজোয়ার। দুর্গাপুরের দুই বিধানসভা কেন্দ্রের বাম প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই মহামিছিল দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নিজেদের একসময়ের শক্ত ঘাঁটি এই শিল্পাঞ্চলে ফের জমি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাম শিবির।দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী সীমান্ত চ্যাটার্জি এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বাম প্রার্থী প্রভাস সাঁই।
মহামিছিলের রূপরেখা ও জনজোয়ার:
এদিন দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি মোড় থেকে শুরু হয় বামেদের এই সুবিশাল মিছিল। হাজার হাজার দলীয় কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি বেনাচিতির পাঁচমাথা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। লাল ঝাণ্ডা, ফেস্টুন আর বামপন্থী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে, প্রচারের ময়দানে তারা কোনো অংশেই পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়।
কঠিন লড়াইয়ের মুখে শাসকদল:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের দুর্গাপুরের নির্বাচন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। দুর্গাপুরের কেন্দ্রগুলিতে বামফ্রন্ট এবং তাদের সহযোগী দলগুলি তৃণমূলের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। বিগত নির্বাচনগুলির তুলনায় এবারের এই সংগঠিত প্রচার এবং বিশাল জমায়েত শাসক শিবিরকে যে বেশ চাপে ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
বিকল্প ইস্তাহার ও অপশাসনের অভিযোগ:
এদিনের মহামিছিল থেকে বাম প্রার্থীরা সাধারণ মানুষের কাছে তাদের 'বিকল্প ইস্তাহার' তুলে ধরেন। বিগত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালকে সম্পূর্ণ 'অপশাসন' হিসেবে অভিহিত করে তীব্র আক্রমণ শানান বাম নেতৃত্ব। বামেদের দাবি, দীর্ঘ এই শাসনে মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এখন এই অপশাসনের হাত থেকে মুক্তি পেতে একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প খুঁজছে। মানুষের দুয়ারে গিয়ে তারা সেই বিকল্পের প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছেন।
শিল্পাঞ্চলের হৃত গৌরব ও বেকারত্ব ইস্যু:
দুর্গাপুরের মতো জায়গায় নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ইস্যু হলো শিল্প। একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই শিল্পশহর কেন আজ তার শ্রী হারাচ্ছে, তা নিয়ে এদিন সরব হন বাম প্রার্থীরা। দুর্গাপুর মূলত একটি শিল্পাঞ্চল, কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই অঞ্চলে একাধিক ছোট-বড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় এই শহর ধীরে ধীরে তার 'শিল্প শহরের' তকমা হারাচ্ছে। মিছিল থেকে জোরালো দাবি তোলা হয়, দুর্গাপুরের হৃত গৌরব ফেরাতে, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে বামফ্রন্টই একমাত্র যোগ্য বিকল্প।
সব মিলিয়ে প্রচারের শেষ লগ্নে দুর্গাপুরের রাস্তায় বামেদের এই শক্তি প্রদর্শন শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরেরই নজর কেড়েছে। শিল্পের দাবি এবং অপশাসনের বিরুদ্ধে তোলা এই আওয়াজ সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং ভোটের বাক্সে তার কতটা প্রতিফলন ঘটবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।










