কলকাতা | ২রা এপ্রিল, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ তারিখের মধ্যে ভোটার তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ আপত্তির সবকটি নিষ্পত্তি করতে হবে। ১৯টি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন অ্যাপিল ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে এই বিশাল সংখ্যক অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই ট্রাইব্যুনালগুলো বন্ধ হয়নি, বরং নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এগুলি বর্তমানে পূর্ণ উদ্যমে সক্রিয় রয়েছে।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল জানিয়েছেন যে, ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ৬০ লক্ষ আপত্তির মধ্যে প্রায় ৪৭.৪ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। বাকি থাকা মামলাগুলো ৭ই এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে হবে।
ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা: সুপ্রিম কোর্ট এই ১৯টি ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে নতুন নথিপত্র খতিয়ে দেখতে পারবে তারা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে পুরো রেকর্ড নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে।
তদারকি: প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের নেতৃত্বে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালগুলো সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে কাজ করছে।
ভোটদানের অধিকার ও আইনি প্রতিকার: আদালত উল্লেখ করেছে যে, যদি কোনো ভোটার এই প্রক্রিয়ার কারণে সাময়িকভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়েন এবং ভোট দিতে না পারেন, তবুও ট্রাইব্যুনাল তার মামলার শুনানি চালিয়ে যাবে। পরবর্তীতে সঠিক তথ্য প্রমাণিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কেন এই বিশেষ তৎপরতা?
নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যাতে কোনো ধরনের ভুল বা অনিয়ম না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য। তালিকায় জালিয়াতি রুখতে এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে "লজিক্যাল কনক্লুশন" বা যৌক্তিক পরিণতি পর্যন্ত এই শুনানি চলবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আগামী দিনে এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পুনরায় শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে কোনো আপত্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের এই দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করছে।


