বিশেষ প্রতিবেদন, বসিরহাট: বসিরহাট মানেই একসময় ছিল বামপন্থীদের এক অজেয় দুর্গ, প্রবাদপ্রতিম নেত্রী কমরেড রেণু চক্রবর্তীর স্মৃতি ও লড়াইয়ের বিজড়িত মাটি। আর সেই লাল মাটিতেই যেন ফিরে এল ১৯৭৭ সালের সেই চেনা উন্মাদনা! বসিরহাট উত্তর বিধানসভা এলাকায় আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আয়োজিত এক মহামিছিল ঘিরে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস চোখে পড়ল কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রবীণ রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিনের এই স্বতঃস্ফূর্ত জনপ্লাবন যেন আক্ষরিক অর্থেই 'ফ্ল্যাশব্যাকে সাতাত্তর'।
নওশাদের নেতৃত্বে জনপ্লাবন
বসিরহাট উত্তরে এদিন আইএসএফ এবং বাম কর্মী-সমর্থকদের বিশাল ঢল নামে। মহামিছিলের পুরোভাগে ছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে এক নতুন শক্তির সঞ্চার করে। একদিকে লাল ঝান্ডা এবং অন্যদিকে আইএসএফ-এর পতাকায় ছয়লাপ হয়ে যায় রাস্তার দু'পাশ। মিছিলে যুবসমাজের পাশাপাশি সব বয়সের মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিচ্ছে, বসিরহাটের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে হাওয়া বদল হচ্ছে।
রেণু চক্রবর্তীর স্মৃতি ও সাতাত্তরের নস্টালজিয়া
বসিরহাটের মাটি ইতিহাসগতভাবেই বামপন্থী আন্দোলনের এক অন্যতম পীঠস্থান। ১৯৫২ সালের প্রথম লোকসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে একাধিকবার এই এলাকার মানুষের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ কমিউনিস্ট নেত্রী কমরেড রেণু চক্রবর্তী। এদিন মিছিলে পা মিলিয়ে অনেক প্রবীণ মানুষের মুখেই উঠে আসে সেই সোনালি অতীতের কথা। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট যখন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে, সেই সময়ের মানুষের লাল ঝান্ডার প্রতি যে আবেগ ছিল, তার সঙ্গেই এদিনের এই মহামিছিলের তুলনা টানছেন অনেকে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বসিরহাট উত্তরে নওশাদের এই মহামিছিল শাসক দলের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। একসময়ের বাম দুর্গ, যা দীর্ঘসময় ধরে শাসক দলের দখলে, সেখানে ফের বিরোধী শিবিরের এই বিশাল জমায়েত প্রমাণ করে যে বিরোধী স্বর ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। কমরেড রেণু চক্রবর্তীর সেই চেনা মাটিতে নতুন প্রজন্মের নেতা হিসেবে নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে এই মহামিছিল এবং জোটের এই শক্তি প্রদর্শন আগামী দিনে বসিরহাটের রাজনীতিতে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করল কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




