নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের নির্বাচনী বন্ড (Electoral Bond) সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সবচেয়ে বেশি অঙ্কের অনুদান দিয়েছে লটারি সংস্থা ‘ডিয়ার লটারি’ (ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেস)।
মূল তথ্যসমূহ:
সর্বাধিক অনুদান: তৃণমূল কংগ্রেসকে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকা দিয়েছে সান্তিয়াগো মার্টিনের মালিকানাধীন এই লটারি সংস্থা।
বিজেপি যোগের দাবি: রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে কারণ ডিয়ার লটারির মালিকের ছেলে চার্লস জেয়াকুমার ইতিপূর্বেই বিজেপিতে যোগদান করেছেন। ছবির মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের রাজনীতির সাথেও যুক্ত।
রাজনৈতিক কটাক্ষ: বিরোধীরা এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে ‘সেটিং’ তত্ত্ব সামনে আনছে। শাসক দল কেন একটি লটারি সংস্থার থেকে এত টাকা নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বাম ও কংগ্রেস। অন্যদিকে, বিজেপির সাথে মালিকপক্ষের পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসায় পাল্টা চাপে পড়েছে গেরুয়া শিবিরও।
কবিতার ছলে বিদ্রূপ:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই বার্তায় জনপ্রিয় একটি বাংলা প্রবাদ বা কবিতার লাইন "ফুলে ফুলে..." ব্যবহার করে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। এখানে 'ফুল' বলতে তৃণমূলের প্রতীক (ঘাসফুল) এবং বিজেপির প্রতীক (পদ্মফুল) উভয়কেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেটিজেনদের দাবি, পর্দার আড়ালে উভয় ফুলের মধ্যেই আর্থিক লেনদেনের এক অদ্ভুত রসায়ন কাজ করছে।
বিশ্লেষণ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) তথ্য জমা দেওয়ার পর দেখা গেছে, ডিয়ার লটারি শুধুমাত্র তৃণমূল নয়, ডিএমকে (DMK) এবং বিজেপিকেও (BJP) বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সাথে এই সংস্থার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এখন সরগরম বিধানসভা থেকে চায়ের দোকান।


