তেহরান, ৭ এপ্রিল ২০২৬: ইরানের ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং পরবর্তী উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানকে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সফল উদ্ধারকাজ দাবি করলেও, ইরান একে দেখছে পরমাণু সম্পদ চুরির একটি ব্যর্থ ‘গোপন মিশন’ হিসেবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ভূপাতিত বিমান ও উদ্ধার অভিযানl
গত ৩ এপ্রিল ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর ইরানি বাহিনীর হামলায় মার্কিন এফ-১৫ই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা পাইলট ও ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার (WSO) ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি বিশাল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে পাইলট ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি একে “মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান” বলে আখ্যা দেন।
ইরানের পাল্টা দাবি: ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, উদ্ধার অভিযানের আড়ালে মার্কিন বিশেষ বাহিনী (সম্ভবত সিল টিম ৬) ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনা থেকে প্রায় ৪০০-৪৫০ কেজি উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (৬০% বিশুদ্ধতা) চুরির চেষ্টা চালিয়েছিল।
পাল্টাপাল্টি সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রমাণ
ইরানি সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এই অভিযানকে “প্রতারণামূলক ও ব্যর্থ” বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে মার্কিন বাহিনী চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
| বিবরণ | ইরানের দাবি | যুক্তরাষ্ট্রের দাবি |
| বিমান ক্ষয়ক্ষতি | ২টি এমসি-১৩০ ও ২টি ব্ল্যাক হক ধ্বংস হয়েছে। | ২টি এমসি-১৩০ কৌশলগত কারণে নিজেদের সেনারাই ধ্বংস করেছে। |
| অভিযানের লক্ষ্য | ইউরেনিয়াম চুরি (অপারেশন ‘টাবাস টু’)। | শুধুমাত্র ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করা। |
| সফলতা | মার্কিন অভিযান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। | এটি একটি সফল কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (CSAR) মিশন। |
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু ভিডিও ও ছবিতে জ্বলন্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখানো হয়েছে, যা তেহরানের দাবিকে জোরালো করছে। অন্যদিকে, পেন্টাগন জানিয়েছে যে গোপনীয়তা রক্ষার্থে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলো নিজেরাই ধ্বংস করেছে এবং কোনো মার্কিন সেনা প্রাণ হারায়নি।
ঐতিহাসিক তুলনা ও বর্তমান উদ্বেগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এই ঘটনা ১৯৮০ সালের ব্যর্থ “অপারেশন ঈগল ক্ল”-এর স্মৃতি উসকে দিয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে “টাবাস টু” হিসেবে অভিহিত করছে, যা মার্কিন সামরিক সক্ষমতার জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
"ইসফাহানের মতো স্পর্শকাতর পরমাণু অঞ্চলের কাছে এত বড় মাপের অভিযানের পেছনে কেবল দু’জন পাইলট উদ্ধারই একমাত্র উদ্দেশ্য কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।" — সামরিক বিশ্লেষক
ইসফাহানের কৌশলগত গুরুত্ব এবং দুই দেশের বিপরীতমুখী বিবৃতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




