তেহরান: ওমান সাগরে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘তোসকা’ (Tosca)-তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা এবং নাবিক ও তাদের পরিবারকে আটকে রাখার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরান এই ঘটনাকে ‘সমুদ্র ডাকাতি’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদী কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সোমবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) ইরান সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।
বিবৃতির মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
হামলার বিবরণ: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (রবিবার) সন্ধ্যায় ওমান সাগরে ইরানি উপকূলের কাছে ‘তোসকা’ নামক বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়।
বেআইনি পদক্ষেপ: ইরান এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ গত ৮ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের শামিল।
আর্ন্তজাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ: ইরান ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের মহাসচিব, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)-কে এই বিষয়ে অবহিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘ক্রিমিনাল’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই ঘটনার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। তেহরানের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জাহাজ, নাবিক, ক্রু এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে।
"ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং ইরানি নাগরিকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় নিজের সমস্ত সক্ষমতা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। এই ঘটনার ফলে অঞ্চলে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে।"
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সদ্য স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন গভীর সংকটের মুখে।
🔹 সূত্র: ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় / @enemywatch


