নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির 'বিকল্প ইশতেহার' প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। এদিন কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমসহ ফ্রন্টের অন্যান্য শরিক দলের নেতারা এই ইশতেহার জনসমক্ষে আনেন।
ইশতেহারের প্রধান ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতিসমূহ:
বামফ্রন্টের এই ইশতেহারে মূলত কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হলো:
কর্মসংস্থান ও শ্রমিকের অধিকার:
প্রতিটি পরিবারের জন্য অন্তত একটি স্থায়ী কাজ নিশ্চিত করা হবে।
প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকার যুবক-যুবতীর জন্য অন্তত দুটি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি।
১০০ দিনের কাজের পরিধি বাড়িয়ে শহরে বছরে ১২০ দিন এবং গ্রামে ২০০ দিন কাজের গ্যারান্টি, দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে।
শ্রমিকের ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৭০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য:
রাজ্য বাজেটের ২০% শিক্ষা খাতে এবং ১০% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা হবে।
স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি সম্পূর্ণ মকুব করার ঘোষণা।
প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা।
কৃষি ও কৃষক:
১৬টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) উৎপাদন ব্যয়ের অন্তত দেড়গুণ করার প্রতিশ্রুতি।
বিদ্যুৎ ও জনকল্যাণ:
প্রিপেইড ডায়নামিক স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করা হবে।
আয়কর দেন না এমন নাগরিকদের জন্য ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দামে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
নারী ও সামাজিক সুরক্ষা:
মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব 'স্বশাসিত অভয়া বাহিনী' গঠন।
দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য মাসে ৬,০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা।
তৃতীয় লিঙ্গ ও Queer শ্রমিকদের জন্য সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করা।
দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলার ডাক
ইশতেহারে বামফ্রন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা রাজ্যে 'লুটেরার ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, তোলাবাজ-মুক্ত নতুন বাংলা' গড়তে চায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের শেষে বিমান বসু (সিপিআইএম), মহম্মদ সেলিম (সিপিআইএম), স্বপন ব্যানার্জি (সিপিআই), তপন হোড় (আরএসপি), নরেন চ্যাটার্জি (ফরওয়ার্ড ব্লক) সহ ফ্রন্টের অন্যান্য নেতৃত্বদের স্বাক্ষর রয়েছে।
বাম নেতৃত্বের দাবি, এই ইশতেহার কেবল প্রতিশ্রুতির ডালি নয়, বরং বাংলাকে বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বের করে আনার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা।


