মালদহ | ৩ এপ্রিল, ২০২৬: মালদহের কালিয়াচকে বিডিও (BDO) অফিসে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের জিম্মি করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই ঘটনার মূল "মাস্টারমাইন্ড" হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট মোফাক্কেরুল ইসলামকে উত্তরবঙ্গের বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে জনতাকে উসকানি দিতে দেখা গিয়েছিল, যেখানে তিনি দম্ভভরে বলেছিলেন যে সিআইডি (CID) বা ডিজি (DG)—কেউ এলেও তাঁরা আন্দোলন থেকে সরবেন না। এই গ্রেফতারির পর ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরেছে।
আদালতের কড়া অবস্থান ও NIA-এর প্রবেশ
কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে ৭ জন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ: ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব, ডিজিপি এবং মালদহের জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে।
NIA তদন্ত: আদালতের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এনআইএ-র একটি দল ইতিমধ্যেই কালিয়াচকে পৌঁছে স্থানীয় পুলিশের সাথে সমন্বয় করে তদন্ত শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত: এলাকাটি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে হওয়ায় এবং অভিযুক্তের সাথে এআইএমআইএম (AIMIM)-এর পুরনো যোগসূত্র থাকায় এই ঘটনার পেছনে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
বর্তমান পরিস্থিতি ও গ্রেফতারির পরিসংখ্যান
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিক্ষোভের জেরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলীকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গ্রেফতারির এক নজরে:
| ঘটনার বিষয় | সাল | মোট গ্রেফতার | প্রধান অভিযুক্ত/সংগঠন |
| SIR ভোটার তালিকা বিক্ষোভ (বিডিও অফিস ঘেরাও) | ২০২৬ | ২২ জন | মোফাক্কেরুল ইসলাম, মৌলানা শাহজাহান আলী |
| রামনবমী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ | ২০২৫ | ৬৩ জন | উভয় সম্প্রদায়ের একাধিক ব্যক্তি |
অতীতের ক্ষত: ২০২৫-এর স্মৃতি
২০২৬-এর এই উত্তেজনার মধ্যেই ফিরে আসছে গত বছরের স্মৃতি। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে মোথাবাড়িতে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৬৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্ট সেই মামলার রিপোর্টও তলব করেছিল।
বর্তমানে মোথাবাড়ি ও কালিয়াচক এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার এবং কোনো রকম গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


