নয়াদিল্লি, ৬ মে, ২০২৬: এইমস (AIIMS)-এর স্নাতকোত্তর (PG) স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি আসন 'ইনস্টিটিউশনাল প্রিফারেন্স' বা প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকারের মাধ্যমে পূরণ করার অভিযোগ উঠেছিল। এই পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন বুধবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি আলোক আরাধের বেঞ্চ এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক স্পষ্ট করে দিয়েছে—ভবিষ্যতে অন্য কোনো মামলায় এই প্রসঙ্গের আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
মূল বিতর্ক: অগ্রাধিকার বনাম সংরক্ষণ
এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছে সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ২৩ বছর বয়সী এক চিকিৎসা প্রার্থীর দায়ের করা মামলা। মূল অভিযোগ ছিল, AIIMS তাদের INI-CET পরীক্ষায় যোগ্যতার চেয়ে 'প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়'কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিগত রায়: ২০০২ (AIIMS Students Union বনাম AIIMS) এবং ২০০৩ (সৌরভ চৌধুরী বনাম ভারত সরকার) সালের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায় অনুযায়ী, 'প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণ' অসাংবিধানিক হলেও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত 'প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার' দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
আবেদনকারীর দাবি: আবেদনকারীর অভিযোগ ছিল, AIIMS এই ৫০ শতাংশের সীমা লঙ্ঘন করছে। কিছু বিশেষ বিভাগে ১০০ শতাংশ আসনই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন MBBS ছাত্রদের জন্য রাখা হচ্ছে, যা মেধা তালিকার উপরের দিকে থাকা সাধারণ প্রার্থীদের বঞ্চিত করছে।
সাংবিধানিক যুক্তি: আবেদনকারীর দাবি ছিল, এই ব্যবস্থা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (সমতা), ১৯(১)(জি) (পছন্দমতো পেশা নির্বাচনের অধিকার), ২১ (জনস্বাস্থ্য) এবং ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করছে। কম মেধাসম্পন্ন ডাক্তারদের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সুযোগ দিলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও যুক্তি দেওয়া হয়।
AIIMS-এর পাল্টা যুক্তি
এইমস কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে জানায় যে তারা আদালতের নির্দেশিকা মেনেই কাজ করছে। তাদের প্রধান যুক্তিগুলি হলো:
সীমা লঙ্ঘন হয়নি: কোনো অবস্থাতেই মোট অসংরক্ষিত আসনের ৫০ শতাংশের বেশি প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। সামগ্রিকভাবে এই সংখ্যাটি বর্তমানে ১৮% থেকে ২৪% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
বিষয়ভিত্তিক তারতম্য: SC/ST বা OBC সংরক্ষণের মতো এই অগ্রাধিকার বিভাগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট নয়। সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সীমা বজায় রেখে এটি বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
ব্যক্তিগত ব্যর্থতা: এইমস জানায় যে, আবেদনকারী নিজের পছন্দমতো নির্দিষ্ট বিষয় বা প্রতিষ্ঠান না পাওয়ার কারণেই এই মামলা করেছেন, এর পেছনে কোনো পদ্ধতিগত ত্রুটি নেই।
আবেদনের প্রেক্ষিতে সাংবিধানিক পয়েন্ট
| সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ | অভিযোগের ভিত্তি |
| অনুচ্ছেদ ১৪ | সাধারণ মেধাবী প্রার্থীদের ওপর অন্যায্য পক্ষপাত। |
| অনুচ্ছেদ ১৯(১)(জি) | পেশা অনুশীলনের স্বাধীনতায় বাধা। |
| অনুচ্ছেদ ২১ | কম মেধাসম্পন্ন চিকিৎসকদের নিয়োগে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি। |
| অনুচ্ছেদ ৪১ | মেধাবীদের কর্মসংস্থানের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া। |
বর্তমান পরিস্থিতি ও গুরুত্ব
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে আপাতত AIIMS-এর বর্তমান ভর্তি প্রক্রিয়া বহাল থাকছে। তবে আদালত 'কোয়েশ্চেন অফ ল' বা আইনি প্রশ্নটি খোলা রাখায় ভবিষ্যতে উচ্চতর কোনো বেঞ্চ এই বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বিচার করতে পারে। বিশেষ করে, কোনো নির্দিষ্ট একটি বিভাগে অগ্রাধিকারের সীমা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল। সারা দেশের হাজার হাজার চিকিৎসকের জন্য এই আইনি লড়াই ভবিষ্যতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।


