ভিউজ নাও ডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রের উষ্ণ জল দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা ২০২৬ সালে একটি শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু প্রশান্ত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থার উপর।
এল নিনো হল ‘এল নিনো–সাউদার্ন অসিলেশন’ বা ENSO চক্রের উষ্ণ পর্যায়। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্যভাগে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। দুর্বল হয়ে পড়ে ট্রেড উইন্ডস, উষ্ণ জল পূর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ বদলে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিশ্বের একাধিক অঞ্চলে দেখা দিতে পারে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানলের আশঙ্কা বাড়বে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কৃষি, মৎস্য এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও বড়সড় ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৮৭৭-৭৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ জলবায়ুগত সংকট হিসেবে দেখা হয়। সেই সময় বহু দেশে খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় আরও জটিল। কারণ এখন পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও শক্তি জমা হচ্ছে, যা তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো চরম আবহাওয়াকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীরা এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, এল নিনো কোনও স্থায়ী জলবায়ু অবস্থা নয়। সাধারণত এটি কয়েক মাস থেকে এক বছরের মধ্যে দুর্বল হয়ে নিরপেক্ষ বা ‘লা নিনা’ পরিস্থিতির দিকে ফিরে যায়। কিন্তু এর অস্থায়ী উপস্থিতিও বিশ্ব আবহাওয়ার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
জলবায়ু গবেষকদের মতে, এখন মূল লক্ষ্য আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতি। উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্রের সম্পর্ক আরও গভীরভাবে বোঝার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ আগামী দিনে এই ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হবে বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ।


