" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory লাল সেলাম কমরেড আর. উমানাথ (২১ ডিসেম্বর ১৯২১ - ২১ মে ২০১৪): এক বর্ণাঢ্য বিপ্লবী জীবনের স্মরণ //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

লাল সেলাম কমরেড আর. উমানাথ (২১ ডিসেম্বর ১৯২১ - ২১ মে ২০১৪): এক বর্ণাঢ্য বিপ্লবী জীবনের স্মরণ




ভারতের কমিউনিস্ট ও শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব কমরেড আর. উমানাথের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা ও লাল সেলাম। তামিলনাড়ুতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের এই নেতা তাঁর জীবনের সুদীর্ঘ সাত দশক শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এবং মার্কসবাদী-লেনিনবাদী আদর্শের প্রসারে উৎসর্গ করেছিলেন।


আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই, অগ্রজ কমরেড কে. মুথাইয়ার সাহচর্যে তিনি কমিউনিস্ট আদর্শে অনুপ্রাণিত হন এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের সংগঠিত করে শ্রেণিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।


শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রণী মুখ


কমরেড উমানাথ ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (CITU)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তামিলনাড়ু সিটু-র প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর দীর্ঘকাল তিনি সেখানকার সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি সিটু-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করেন এবং কমরেড বি. টি. রণদিভের (BTR) প্রয়াণের পর দীর্ঘ সময় সিটু কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।


পার্টির নেতৃত্বে সুযোগ্য ভূমিকা

মার্কসবাদ-লেনিনবাদের প্রতি অবিচল আস্থাশীল কমরেড উমানাথ ১৯৭৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া, কয়েক দশক ধরে তিনি তামিলনাড়ু রাজ্য কমিটি এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০০০ সালে পার্টির কর্মসূচি নবীকরণের সময় তাঁর গভীর মার্কসবাদী বোঝাপড়া, অকাট্য যুক্তি এবং স্পষ্টবাদিতা ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি সব সময় গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতেন।


সংগ্রাম, কারাবাস ও আত্মগোপন


তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির কাসারগোড়ের এক কোঙ্কনি পরিবারে তাঁর জন্ম। কোঝিকোড়ে স্কুলজীবনে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণিত হন এবং ১৯৩৯ সালে আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। বিপ্লবের পথে এই দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তের পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।


প্রথম সারির কমিউনিস্টদের মতোই তাঁর জীবন ছিল কণ্টকাকীর্ণ। ব্রিটিশ ও স্বাধীন ভারতের শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে মাদ্রাজ ষড়যন্ত্র মামলা সহ বিভিন্ন কারণে তাঁকে প্রায় সাড়ে নয় বছর কারাবাস ভোগ করতে হয়। এর পাশাপাশি জরুরি অবস্থাসহ (১৯৭৫-৭৭) মোট সাত বছর তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। ১৯৪৮ সালে কোয়েম্বাটোরে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তাঁর দুঃসাহসিক জেল পালানোর ঘটনা আজও রোমাঞ্চকর। পরবর্তীতে তিনি তিরুচিরাপল্লিতে রেলওয়ে শ্রমিকদের সংগঠিত করেন এবং ১৯৫০-এর দশকে তামিলনাড়ুর অন্যতম প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।


সংসদীয় রাজনীতিতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত


তাঁর রাজনৈতিক গুরু পি. রামমূর্তির মতোই কমরেড উমানাথ তামিল এবং ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই একজন তুখোড় বাগ্মী হয়ে ওঠেন।


লোকসভা: ১৯৬২ এবং ১৯৬৭ সালে পুদুকোট্টাই কেন্দ্র থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। সংসদে কমিউনিস্টদের হয়ে তাঁর জোরালো বক্তব্য ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী।

বিধানসভা:১৯৭৭ এবং ১৯৮০ সালে তিনি তামিলনাড়ু বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

সংসদ এবং বিধানসভা—উভয় ক্ষেত্রেই একজন কমিউনিস্ট জনপ্রতিনিধির আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি।


পারিবারিক আত্মত্যাগ ও বিপ্লবী উত্তরাধিকার


ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর স্ত্রী কমরেড পাপ্পা উমানাথ ছিলেন তাঁর সহযোদ্ধা। পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে এই দম্পতি তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অসংখ্য আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁদেরই সুযোগ্য কন্যা কমরেড ইউ. বাসুকি বর্তমানে সিপিআই(এম)-এর পলিটব্যুরো সদস্য এবং সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির (AIDWA) অন্যতম শীর্ষ নেত্রী।


কমরেড উমানাথের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর আপসহীন সংগ্রাম এবং বিপ্লবী উত্তরাধিকার আগামী দিনেও মেহনতি মানুষের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies