কলকাতা, ১৪ জুলাই: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের বহুচর্চিত মামলার তদন্তে ফের বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন। মাত্র আট দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বদল করা হয়েছে মামলার তদন্তকারী অফিসার (Investigating Officer বা IO)। এবার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা শাখার ডিএসপি শান্তনু মুখোপাধ্যায়কে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত ও আরও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের শুরুতে মামলাটির দায়িত্বে ছিলেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তা দিগন্ত মণ্ডল। পরে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় বারুইপুর থানার প্রাক্তন আইসি জয়ন্ত পোদ্দারকে। এবার তৃতীয় দফায় তদন্তভার তুলে দেওয়া হল ডিএসপি শান্তনু মুখোপাধ্যায়ের হাতে। ফলে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে তদন্তের নেতৃত্বে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে বারুইপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই ভুল সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারান নিরীহ যুবক ইন্দ্রজিৎ তান্তি। পাশাপাশি, ধর্ষণ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হন। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের সময় তিনি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে এই এনকাউন্টার নিয়েও শুরু হয়েছে পৃথক তদন্ত।
এদিকে বারুইপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু করা হয়েছে এবং গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ তান্তির পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী অফিসার বারবার বদল হওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য, মামলার প্রতিটি দিক নতুন করে খতিয়ে দেখে দ্রুত চার্জশিট পেশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী মামলা গড়ে তুলতেই অভিজ্ঞ আধিকারিকের হাতে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নিহত নাবালিকার পরিবার এখনও দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও মনে করছেন, ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু সংক্রান্ত পুলিশি এনকাউন্টার নিয়ে পৃথকভাবে সিআইডি তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় তদন্তও চলছে। ফলে বারুইপুর কাণ্ড এখন শুধুমাত্র একটি ধর্ষণ-খুনের মামলা নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশি পদক্ষেপ এবং তদন্ত প্রক্রিয়া—সবকিছু নিয়েই রাজ্যের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।


