চেন্নাই: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে তামিলনাড়ু। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি. জোসেফ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (TVK) একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, সরকার গঠন নিয়ে রাজ্যপালের অনমনীয় মনোভাবের কারণে রাজ্যে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঐতিহাসিক নির্বাচনী ফলাফল: ভাঙল দ্বি-মেরু রাজনীতির প্রথা
গত ছয় দশকের ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK) নির্ভর তামিল রাজনীতির প্রথা ভেঙে দিয়ে বিজয় এক অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।
TVK (বিজয়): ১০৮টি আসন (ভোট শতাংশ ৩৪.৯২%)
DMK: ৫৯টি আসন
AIADMK: ৪৭টি আসন
কংগ্রেস: ৫টি আসন
বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১১৮। বিজয় তাঁর ব্যক্তিগত দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় এবং বর্তমানে কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ায় তাঁর পাশে রয়েছেন ১১৩ জন বিধায়ক। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তাঁর প্রয়োজন আরও ৫ জন বিধায়ক।
রাজভবনে অচলাবস্থা: রাজ্যপালের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
বিজয় গত ৬ ও ৭ মে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান। কিন্তু রাজ্যপাল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শপথ গ্রহণের আগে বিজয়কে ১১৮ জন বিধায়কের নিঃশর্ত সমর্থনের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
শুধু তাই নয়, এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল দীর্ঘ ছুটিতে চলে গেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বর্ষীয়ান আইনজীবী মুকুল রোহতগি এই পদক্ষেপকে 'অসাংবিধানিক' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এস.আর. বোম্মাই মামলা ও সরকারিয়া কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, একক বৃহত্তম দলের নেতাকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়ে বিধানসভায় ফ্লোর টেস্টের (Floor Test) মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে দেওয়া উচিত।
ক্ষমতার ভারসাম্য কাদের হাতে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোট দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে:
AIADMK (৪৭): তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনোভাবেই TVK-র সাথে জোটে যাবে না। তবে দলের ভেতরে বিভাজন এবং ইদাপ্পাদি পালানিস্বামীর বিধায়কদের সঙ্গে গোপন বৈঠক নিয়ে জল্পনা চলছে।
VCK (২) ও বাম দল: ভিসিকে-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে TVK। সিপিআই (CPI) ফ্লোর টেস্টের দাবি জানালেও, সিপিএম (CPIM) শুক্রবার তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।
কংগ্রেস (৫): তারা ইতিমধ্যেই বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে রাজভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছে।
ডিএমকে-র অবস্থান ও ভবিষ্যৎ
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন জানিয়েছেন, ডিএমকে বিরোধী আসনে বসবে এবং আগামী ছয় মাস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। তবে তারাও অবিলম্বে ফ্লোর টেস্টের দাবি সমর্থন করেছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তামিলনাড়ুর রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যপাল কি বিজয়ের দাবি মেনে নেবেন, নাকি কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে— সেটাই এখন দেখার বিষয়।

.jpg)
