কলকাতা, ৬ মে ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক বিজয়ের আনন্দ এখনও মেটেনি, তার মধ্যেই রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ভয়াবহ চিত্র সামনে এল। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (PA)-কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটায়। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে ৯,৬৬৫ ভোটে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় ভবানীপুরে ১৫,১১৪ ভোটে জয়লাভ করেন। এই ঐতিহাসিক জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনা শুরু হয়।
ঘটনার বিবরণ
মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে শুভেন্দু অধিকারীর PA-কে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, কাজ সেরে ফেরার পথে তাঁকে ঘিরে ধরে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
বিজেপি নেতৃত্ব এই হত্যাকাণ্ডকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের "রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল" বলে অভিহিত করেছে। শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে তাঁর নির্বাচনী জয়ের বক্তৃতায় বলেছিলেন, "তিনশো বিজেপি কর্মী শহিদ হয়েছেন, হিন্দুত্বের জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের এই জয় উৎসর্গ করলাম।" এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিজেপি দ্রুত সিবিআই (CBI) তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলাকালীন এই হত্যার ঘটনা প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগে ঘটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার খবর আসতে থাকায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
রাজনৈতিক তরজা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এটি বিজেপির নিজস্ব গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এবং এর সাথে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তবে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। উত্তেজনা প্রশমনে পুলিশি টহল চলছে।


