" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory ব্রাজিলকে থামিয়ে দিল মরক্কোর সংগঠিত ফুটবল, বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় বার্তা গ্রুপ সি-তে //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

ব্রাজিলকে থামিয়ে দিল মরক্কোর সংগঠিত ফুটবল, বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় বার্তা গ্রুপ সি-তে

 



ভিনিসিয়ুসের জবাবেও জয় এল না, আনচেলত্তির ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলল অ্যাটলাস লায়ন্স

বিশ্লেষণ: শংকর পাল

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ সি-র অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করেছে। ফলাফলটি কাগজে-কলমে সমতা হলেও মাঠের ফুটবল বলছে ভিন্ন গল্প। কারণ, এই ম্যাচ শুধু একটি পয়েন্ট ভাগাভাগির ঘটনা নয়; এটি বিশ্বকাপের শুরুতেই শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার ইঙ্গিতও বহন করছে।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মরক্কোর এই পারফরম্যান্স আবারও মনে করিয়ে দিল যে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। আফ্রিকার এই দলটি এখন বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে সমানে সমানে লড়াই করার মতো পরিণত ও পরিপক্ক।



ম্যাচের শুরুতেই মরক্কোর সাহসী পরিকল্পনা

অনেকেই আশা করেছিলেন, ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল বলের দখল নিয়ে মরক্কোকে চাপে রাখবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র। মরক্কো অত্যন্ত সুসংগঠিত মিডফিল্ড ব্লক তৈরি করে ব্রাজিলের আক্রমণকে মাঝমাঠেই আটকে দিতে থাকে।

২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলটি শুধু একটি সুন্দর ফিনিশ ছিল না; এটি ছিল মরক্কোর কৌশলগত পরিকল্পনার ফল। ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে উঁচু অবস্থানে টেনে এনে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার যে পরিকল্পনা মরক্কো করেছিল, সেই পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়ন ছিল গোলটি।

গোলের মুহূর্তে দেখা যায়, ব্রাজিলের ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মধ্যে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। সাইবারি সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার লব করেন।



ভিনিসিয়ুস আবারও বড় ম্যাচের খেলোয়াড়

মরক্কোর গোলের পর ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল— কে দায়িত্ব নেবে?

উত্তর এল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে।

৩২ মিনিটে তার গোলটি ছিল বিশ্বমানের। শুধু গোল নয়, পুরো প্রথমার্ধে ব্রাজিলের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। যখনই তিনি বল পেয়েছেন, মরক্কোর রক্ষণভাগকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন।

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে ভিনিসিয়ুস নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন। নেইমার-পরবর্তী যুগে দলের নেতৃত্ব যে তার কাঁধেই চলে যাচ্ছে, এই ম্যাচ তার আরও একটি প্রমাণ।

আনচেলত্তির ব্রাজিল এখনও নির্মাণাধীন

এই ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ব্রাজিলের কোচ Carlo Ancelotti-র কৌশল।

বিশ্বের অন্যতম সফল ক্লাব কোচ হিসেবে আনচেলত্তির সুনাম অসাধারণ। কিন্তু জাতীয় দলের ফুটবল ক্লাব ফুটবলের চেয়ে অনেক আলাদা।

ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণে ব্যক্তিগত প্রতিভার ঝলক দেখা গেলেও সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে বল পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ছিল না। রক্ষণভাগেও মাঝে মাঝে যোগাযোগের ঘাটতি চোখে পড়েছে।

বিশেষ করে মরক্কোর দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে ব্রাজিলকে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

এই কারণে বলা যায়, আনচেলত্তির দল এখনও নিজেদের পূর্ণ ছন্দ খুঁজে পায়নি।

মরক্কোর শক্তি: শৃঙ্খলা, গতি ও আত্মবিশ্বাস

বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে সাফল্যের জন্য শুধু তারকা খেলোয়াড় যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সুসংগঠিত দলগত ফুটবল।

মরক্কো ঠিক সেটাই দেখিয়েছে।

তাদের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত কমপ্যাক্ট। মাঝমাঠে প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। ব্রাজিল যখন আক্রমণে উঠেছে, তখন মরক্কোর খেলোয়াড়রা দ্রুত নিজেদের অবস্থানে ফিরে এসে রক্ষণকে শক্তিশালী করেছেন।



সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ব্রাজিলের নাম দেখে মরক্কোর খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো ভয় কাজ করেনি।

এই মানসিক দৃঢ়তাই বর্তমানে মরক্কোকে বিশ্বের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

গ্রুপ সি-র সমীকরণ আরও জটিল

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ সি-তে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

এক পয়েন্ট করে নিয়ে ব্রাজিল ও মরক্কো এখন অপেক্ষা করবে Scotland এবং Haiti-র ম্যাচের ফলাফলের জন্য।

যদি স্কটল্যান্ড বা হাইতি জয় পায়, তাহলে গ্রুপের শীর্ষস্থানে তারা এগিয়ে যাবে এবং ব্রাজিলের ওপর চাপ বাড়বে।

বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানো অনেক সময় পরবর্তী রাউন্ডের সমীকরণকে কঠিন করে তোলে। তাই ব্রাজিলের জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় শিক্ষা

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো— ২০২৬ বিশ্বকাপে আর কোনো "সহজ প্রতিপক্ষ" নেই।

এক সময় বিশ্বকাপে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো দলগুলোর বিরুদ্ধে ছোট দলগুলো মূলত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলত। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে সেই ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে।

মরক্কো তার জীবন্ত উদাহরণ।

তারা শুধু ব্রাজিলকে আটকায়নি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণও করেছে। অনেক মুহূর্তে মনে হয়েছে, জয়ের আরও কাছাকাছি ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরাই।



মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ১-১ ফলাফল হয়তো ইতিহাসের পাতায় একটি সাধারণ ড্র হিসেবেই লেখা থাকবে। কিন্তু ফুটবল বিশ্লেষকদের কাছে এটি বিশ্বকাপের প্রথম বড় বার্তাগুলোর একটি।

ব্রাজিল এখনও প্রতিযোগিতার অন্যতম দাবিদার, কিন্তু তাদের সামনে অনেক কাজ বাকি। আর মরক্কো আবারও জানিয়ে দিল, তারা আর কোনো "ডার্ক হর্স" নয়— তারা এখন বিশ্ব ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত শক্তি।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ঝলক এবং ইসমাইল সাইবারির দুর্দান্ত গোলের রাত শেষ হয়েছে সমতায়, কিন্তু এই ম্যাচের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ফুটবল বার্তা স্পষ্ট— ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কোকে অবহেলা করার সুযোগ নেই, আর ব্রাজিলকে শিরোপা জিততে হলে আরও উন্নতি করতেই হবে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies