খেলাধুলা ডেস্ক (ভিউস নাও): জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচেই ফুটবল বিশ্ব দেখল এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে গ্রুপ 'আই'-এর প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩–১ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করল বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্স। ফরাসিদের এই জয়ের রাতে জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েছেন দলের মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা All-Time Top Scorer
এই ম্যাচের প্রথম গোলটি করার সাথে সাথেই এমবাপ্পে ওলিভিয়ের জিরুকে (৫৭ গোল) টপকে যান। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই তিনি ৫৮টি আন্তর্জাতিক গোল করে ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেন।বিশ্বকাপে নিজের ১৩তম গোলটি করার মাধ্যমে তিনি ফুটবল সম্রাট পেলে (১২ গোল) এবং আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে (১৩ গোল) টপকে যান। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এত কম বয়সে এই দুই কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়া এক অবিশ্বাস্য কীর্তি।ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬ গোল)। ক্লোসার এই সর্বকালের সেরা রেকর্ডটি ভাঙতে এমবাপ্পের প্রয়োজন আর মাত্র ৩টি গোল। বর্তমান ফর্ম বজায় থাকলে এই ২০২৬ বিশ্বকাপেই তিনি ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়ে যেতে পারেন।
প্রথমার্ধে সেনেগালের প্রতিরোধ, ফ্রান্সের ধীরগতি
ম্যাচের শুরু থেকেই আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল বেশ গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে ফরাসি আক্রমণভাগকে কড়া পাহারায় রাখে তারা। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স ছিল বেশ ধীরগতির, যার প্রমাণ মেলে মাত্র ১টি শট এবং মাত্র ০.০২ এক্সপেক্টেড গোল (xG) পরিসংখ্যানে। এমনকি এই অর্ধে ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে পুরো মাঠে মাত্র ১৪ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছিলেন। অন্যদিকে, সেনেগালের নিকোলাস জ্যাকসনের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত। ফলে ০-০ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়াবে ফ্রান্সের গোল উৎসব ও এমবাপ্পের ইতিহাস
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোলে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। এই গোলের সাথেই এমবাপ্পে ওলিভিয়ের জিরুর ৫৭ গোলের রেকর্ড টপকে ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫৮ গোল) হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। একই সাথে বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ১৩তম গোল, যা তাকে স্পর্শ করায় কিংবদন্তি পেলে ও লিওনেল মেসির রেকর্ডের চূড়ায়।
ম্যাচের ৮২ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বারকোলা আদ্রিয়েন রাবিওটের অ্যাসিস্টে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করে ফ্রান্সের ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন।
নাটকীয় ইনজুরি টাইম
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে দেখা যায় চরম নাটকীয়তা। ম্যাচের ৯০+৬ মিনিটে সেনেগালের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে (৩-১)। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪-তে। মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে এমবাপ্পের প্রয়োজন আর মাত্র ৩ গোল।
ঠিক তার পরের মিনিটেই (৯০+৭ মিনিট) সেনেগালের হয়ে সান্ত্বনাসূচক একটি গোল শোধ করেন ইব্রাহিমা এমবায়ে। তবে তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।
| পরিসংখ্যান | ফ্রান্স (FRA) | সেনেগাল (SEN) |
| বল পোজেশন | ৫৭% | ৪৩% |
| মোট শট | ৫ | ৫ |
| লক্ষ্যে শট (On Target) | ৩ | ১ |
| পাসিং অ্যাকুরেসি | ৮৮% | ৮৭% |
| মোট পাস | ৪৪৪ | ৩৭১ |
| ফাউল | ৩ | ৬ |
এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট এবং +২ গোল ব্যবধান নিয়ে গ্রুপ 'আই'-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এল ফ্রান্স। অন্যদিকে দারুণ লড়াই করেও হেরে তলানিতে থাকতে হলো সেনেগালকে। গ্রুপের অন্য দুই দল ইরাক ও নরওয়ে এখনো মাঠে নামেনি।
ভিউস নাও মন্তব্য: প্রথমার্ধে বিবর্ণ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স প্রমাণ করেছে কেন তারা বিশ্বসেরা। আর এমবাপ্পে আবারও দেখালেন, বড় মঞ্চে তিনিই আসল রাজা।






