কলকাতা, ২৯ জুন: লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দশ টাকার ঝাল-মুড়ি কিনে খাওয়ার ছবি একসময় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঝাল-মুড়ি বিক্রেতাদেরই একজন, উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ার বাসিন্দা কার্তিক সাউ, জীবিকা হারানোর চরম হতাশার মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নীতির পরিণতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, কার্তিক সাউ দীর্ঘদিন ধরে এক্সপ্রেস ট্রেনে ঝাল-মুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কিন্তু গত চার দিন ধরে তিনি শিয়ালদহ স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারায় তাঁর রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আয়ের সমস্ত পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি গভীর মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
অভিযোগ, সোমবার সকালে মা তারা এক্সপ্রেস ট্রেনে তিনি আত্মহত্যা করেন।
কার্তিক সাউয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পিছনে রয়ে গেছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী এবং দুই নাবালক সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—জীবিকা কেড়ে নেওয়ার আগে বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা কি প্রশাসনের দায়িত্ব নয়? ক্ষুদ্র হকার, ট্রেন বিক্রেতা ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের শ্রমজীবী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা না থাকায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবার সামনে আসছে বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।
শ্রমজীবী মানুষের সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের মতে, কাজের অধিকার, বাঁচার অধিকার এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহের অধিকার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ট্র্যাজেডি এড়ানো কঠিন হবে।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
(দ্রষ্টব্য: আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে পরিবারের দাবি ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন লেখা হয়েছে। সরকারি তদন্ত বা প্রশাসনিক বিবৃতিতে নতুন তথ্য এলে সেই অনুযায়ী ঘটনাপ্রবাহ পরিবর্তিত হতে পারে।)


