কলকাতা, ৩ জুন: রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ও সাফল্যের ক্ষেত্রে মতাদর্শের গুরুত্ব এবং তার সঙ্গে কার্যকর রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক দীপক রায়। তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক দলের মতাদর্শগত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়লে সংসদীয় গণতন্ত্রে সেই দলের দীর্ঘস্থায়ী অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
তিনি বলেন, একসময়ের শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক বিধায়ক, সাংসদ এবং স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হয় না।
দীপক রায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু দল ক্ষমতায় থেকেও পরবর্তীকালে বিলুপ্ত হয়েছে বা কার্যত অস্তিত্ব হারিয়েছে। তাঁর মতে, মতাদর্শের পরিবর্তে ক্ষমতাকে মুখ্য করে তোলা হলে রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরাজয় এবং আসনসংখ্যা কমে যাওয়ার পরও সিপিআই(এম) তাদের মতাদর্শগত ভিত্তির উপর ভর করে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন যে শুধুমাত্র মতাদর্শের জোরে নির্বাচনী সাফল্য অর্জন করা সবসময় সম্ভব হয় না; এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত রণনীতি ও রণকৌশল।
জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বিজেপি বিভিন্ন রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক কৌশল ও সংগঠনগত পরিকল্পনার মাধ্যমে নিজেদের মতাদর্শের বিস্তার ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে, জাতীয় কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম)-এর মতো দলগুলিকে মতাদর্শগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি সময়োপযোগী রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
দীপক রায়ের মতে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে মতাদর্শ, সংগঠন এবং বাস্তবমুখী রাজনৈতিক কৌশলের সুষম সমন্বয়ের উপর। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কতটা জনঅসন্তোষ তৈরি হয়, তা সেই সময়েই স্পষ্ট হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


