মুম্বই, ২ জুন : অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রমিক-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে সিটু (CITU)-র ডাকে চলমান ‘আক্রোশ অবস্থান’ আন্দোলন মঙ্গলবার আরও জোরদার হয়। নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, বিড়ি শ্রমিক, আখ কাটার শ্রমিক, পাওয়ারলুম শিল্পের শ্রমিকসহ বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রের হাজার হাজার শ্রমিক এদিন বিক্ষোভে যোগ দেন।
সোমবার শুরু হওয়া এই অবস্থান-বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অংশ নিয়ে শ্রমিক সুরক্ষা জোরদার করা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের শোষণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠা সরকারি নীতির অবসানের দাবি জানান।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সিটু মহারাষ্ট্র রাজ্য সভাপতি ডঃ ডি. এল. কারাড, সাধারণ সম্পাদক এম. এইচ. শেখ, কে. আর. রঘু, ডঃ বিবেক মন্টেইরো, শুভা শামিম, ভূষণ পাটিল, উজ্জ্বলা পদলওয়ার, ভরমা কাম্বলে, শিবাজি মাগদুম, নাসিমা শেখ, আরমাইটি ইরানি, কিরণ মোঘে, আবাসাহেব চৌগুলে এবং ইউসুফ মেজর প্রমুখ। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতি অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং অর্জুন সেনগুপ্ত কমিটির সদস্য ডঃ সুমঙ্গলা দামোদরন সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯০ শতাংশই অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিযুক্ত। অথচ তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। তিনি শ্রমিক কল্যাণে বৃহত্তর বাজেট বরাদ্দ এবং সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানান।
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ডিওয়াইএফআই-এর মহারাষ্ট্র রাজ্য সভাপতি মোহন যাদব বলেন, সরকারের নীতির ফলে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার প্রভাব যুবসমাজ ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর পড়ছে।
বিপ্লবী গণশিল্পী শাহির সম্ভাজি ভগতও সমাবেশে উপস্থিত থেকে গান ও বক্তব্যের মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন। তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহ্বান জানান।
এদিন মহারাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী আকাশ ফুন্ডকর সিটুর একটি প্রতিনিধিদলকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান। প্রতিনিধিদলটি রাজ্যের অসংগঠিত শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করে এবং দাবিগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডঃ ডি. এল. কারাড, এম. এইচ. শেখ, সিপিআই(এম)-এর বিধায়ক বিনোদ নিকোলে, ডঃ বিবেক মন্টেইরো, আরমাইটি ইরানি, কিরণ মোঘে, ভরমা কাম্বলে, আবাসাহেব চৌগুলে-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শ্রমিকদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— সমস্ত ক্ষেত্রে স্থায়ী নিয়োগ, মাসিক ন্যূনতম ৩০,০০০ টাকা মজুরি, সকল অসংগঠিত শ্রমিকের জন্য পিএফ, ইএসআই ও পেনশন সুবিধা চালু করা, ক্ষেত্রভিত্তিক কল্যাণ বোর্ড গঠন এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি চারটি শ্রম কোড বাতিল করা এবং মহারাষ্ট্রে তা কার্যকর না করার দাবি তোলা হয়। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির দাম কমানো, প্রকল্পভিত্তিক কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং তাঁদের জন্য ন্যূনতম মজুরি, পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও পেনশন চালুর দাবিও জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা করেছেন, অসংগঠিত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। মহারাষ্ট্রের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই বিপুল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লড়াই আরও বিস্তৃত হবে বলেও তাঁরা জানান।





