নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় চলতে থাকা হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। হাওড়া স্টেশন-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় হকার উচ্ছেদের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত। ফলে আপাতত উচ্ছেদের আশঙ্কা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেলেন হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যথাযথ পুনর্বাসন এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো হকারকে উচ্ছেদ করা যাবে না। বিশেষ করে যাঁদের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রেও আপাতত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।
শুনানিতে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—যে জমির ওপর থেকে হকারদের সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেই জমি আদৌ রেলের মালিকানাধীন কি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
হকারদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি যুক্তি দেন, বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করেই হাজার হাজার মানুষের জীবিকা বিপন্ন করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, হকারদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে ওইসব এলাকায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং হঠাৎ উচ্ছেদ তাঁদের পরিবারকে চরম সংকটে ফেলতে পারে.
বিকাশবাবুর এই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েই আদালত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। পাশাপাশি রেল ও প্রশাসনকে আইনসম্মত এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দেয় আদালত।
মামলার পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমির মালিকানা, হকারদের অবস্থান এবং পুনর্বাসনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে উচ্ছেদ অভিযান বা পুনর্বাসন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত হাওড়া, কোন্নগর, ডানকুনি এবং যাদবপুর-সহ বিভিন্ন স্টেশনের একাধিক মামলা একত্রে শুনানির জন্য আদালত ১৭ জুন দিন ধার্য করেছে। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলাগুলির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন হকার সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ মানে হাজার হাজার পরিবারের রুজি-রুটির ওপর আঘাত। অন্যদিকে রেল ও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজ্যে হকার উচ্ছেদ বনাম পুনর্বাসন বিতর্কের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এখন নজর পরবর্তী শুনানি ও আদালতে জমা পড়া রিপোর্টের দিকে।


