" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory বিশ্বকাপ ২০২৬: দুইবার এগিয়েও জয় পেল না নেদারল্যান্ডস, কামাদার শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

বিশ্বকাপ ২০২৬: দুইবার এগিয়েও জয় পেল না নেদারল্যান্ডস, কামাদার শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন

 



আর্লিংটন, টেক্সাস | নিজস্ব সংবাদদাতা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুইবার এগিয়েও জয় ছিনিয়ে নিতে পারল না Netherlands। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের AT&T স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জাপানের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যদের। অন্যদিকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া Japan দেখিয়ে দিল কেন তাদের এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে ধরা হয়।



৬৯,২৮৫ দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল কৌশল, গতি, আক্রমণ এবং মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য প্রদর্শনী। প্রথমার্ধে গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে চারটি গোলের বন্যা বয়ে যায়, যার প্রত্যেকটিই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।



প্রথমার্ধ: ডাচ আধিপত্য, জাপানের সংগঠিত রক্ষণ



ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে নেদারল্যান্ডস। মিডফিল্ডে রায়ান গ্রাভেনবার্খ ও ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের উপস্থিতিতে ডাচরা ধারাবাহিক আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকে। তবে জাপানের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ।

জাপানি গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোল না হলেও বোঝা যাচ্ছিল যে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের রূপ বদলাতে পারে


ভ্যান ডাইকের হেডে ডাচদের এগিয়ে যাওয়া


৫১ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় নেদারল্যান্ডস। কর্নার কিক থেকে উঠে আসা অধিনায়ক Virgil van Dijk জাপানি ডিফেন্ডারদের হারিয়ে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।

৩৪ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডার শুধু রক্ষণেই নয়, বড় ম্যাচে গোল করার ক্ষেত্রেও কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও প্রমাণ করলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জনের পর এবারও ডাচদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম সেরা সেন্টার-ব্যাক হিসেবে পরিচিত ভ্যান ডাইকের গোলেই ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙে।




কেইতো নাকামুরার দ্রুত জবাব


তবে নেদারল্যান্ডসের আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মিনিট। ৫৭ মিনিটে জাপানের উদীয়মান তারকা Keito Nakamura দুর্দান্ত গোল করে সমতা ফেরান।

ফ্রান্সের ক্লাব Stade de Reims-এর হয়ে খেলা ২৫ বছর বয়সি নাকামুরা বর্তমানে জাপানের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। তিনি বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত বক্সের সামনে পৌঁছে নিচু শটে গোল করেন। ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বলের দিক বদলে যাওয়ায় গোলরক্ষকের কিছু করার ছিল না।

নাকামুরার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও দ্রুত উত্থানের গল্প। ইতিমধ্যেই জাপানের হয়ে দুই ডজনের বেশি ম্যাচ খেলে ১০টিরও বেশি গোল করেছেন তিনি। গত বছর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ে গোল করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।




সামারভিলের অসাধারণ গোল


সমতায় ফেরার পর জাপান যখন আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছিল, তখনই আবার আঘাত হানে ডাচরা। ৬৪ মিনিটে Crysencio Summerville ম্যাচের অন্যতম সেরা গোলটি করেন।



রায়ান গ্রাভেনবার্খের পাস পেয়ে ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের কার্লিং শটে বল জালের দূর কোণে পাঠিয়ে দেন তিনি। জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি শুধু বলের গতি দেখতেই পারেন।

২৪ বছর বয়সি সামারভিল বর্তমানে West Ham United-এর হয়ে খেলেন। গত কয়েক মৌসুমে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজরে এসেছেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই গোল তাঁর মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিল।




কামাদার নাটকীয় প্রত্যাবর্তন


ম্যাচের শেষ দিকে নেদারল্যান্ডস বলের দখল ধরে রেখে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু জাপান হাল ছাড়েনি।

৮৯ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলের জটলায় সুযোগ পেয়ে যান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার Daichi Kamada। কাছ থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে তিনি ম্যাচ ২-২ করে দেন।




২৯ বছর বয়সি কামাদা বর্তমানে Crystal Palace FC-এর হয়ে খেলেন। ২০২২ বিশ্বকাপেও জাপানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় ৫০ ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডার আবারও প্রমাণ করলেন, বড় ম্যাচে তাঁর অভিজ্ঞতা কতটা মূল্যবান।

কামাদার গোলের পর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার জাপানি সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন, আর ডাচ ফুটবলারদের মুখে নেমে আসে হতাশা।


পরিসংখ্যান যা বলছে

ম্যাচের পরিসংখ্যান নেদারল্যান্ডসের আধিপত্যের কথাই বলছে।

  • বল দখল: নেদারল্যান্ডস ৫৯.৮%, জাপান ৪০.২%
  • মোট শট: ১০-১০
  • শট অন টার্গেট: নেদারল্যান্ডস ৬, জাপান ৩
  • কর্নার: নেদারল্যান্ডস ৫, জাপান ৪
  • পাস: নেদারল্যান্ডস ৩৪০, জাপান ১৪৬
  • পাস সফলতা: নেদারল্যান্ডস ৯০%, জাপান ৮৮%

তবে ফুটবল শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়। সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করে। জাপান সেই পরীক্ষায় উতরে গেছে।



ইতিহাস বদলাল না, তবে আত্মবিশ্বাস বাড়ল 


এই ম্যাচের আগে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কখনও জিততে পারেনি জাপান। ২০১০ বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে ডাচরা ১-০ গোলে জিতেছিল। এবারও জয় না এলেও ড্র করে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নিল জাপান।

অন্যদিকে তিনবারের বিশ্বকাপ রানার্স-আপ নেদারল্যান্ডস আবারও বুঝল যে বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না।



গ্রুপ ‘এফ’-এর লড়াই আরও জমে উঠল


এই ড্রয়ের ফলে দুই দলই ১ পয়েন্ট নিয়ে অভিযান শুরু করল। গ্রুপে এখনও রয়েছে Sweden ও Tunisia। ফলে নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াই এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।


পরবর্তী ম্যাচ

  • ২০ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন
  • ২৫ জুন: জাপান বনাম তিউনিসিয়া

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জাপান দেখিয়ে দিল, তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি—বড় দলগুলোর স্বপ্ন ভাঙার ক্ষমতাও রাখে। আর নেদারল্যান্ডসের কাছে এই ম্যাচ একটি বড় শিক্ষা: আধিপত্য নয়, শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াই বিশ্বকাপ জেতার মূলমন্ত্র।



Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies