রাজ্য প্রশাসন কৃষ্ণা গুপ্তের (Krishna Gupta) নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে। তিনি একজন প্রবীণ আইএএস (IAS) অফিসার। প্রায় এক বছর ধরে শূন্য থাকা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের (State Election Commissioner of West Bengal) পদে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। চলতি সপ্তাহে রাজ্য সরকারের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে কৃষ্ণা গুপ্ত অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (Additional Chief Secretary) হিসেবে সমবায় দপ্তরের (Co-operation Department) দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
ড. কৃষ্ণা গুপ্ত ও তাঁর বর্ণিল প্রশাসনিক জীবন
শুধু একটা নতুন দায়িত্ব নয়, তাঁর এই পদে আসীন হওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁর কাজের কিছু বড় মাইলফলক:
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের অভিজ্ঞতা: তিনি নিজেকে একজন দীর্ঘমেয়াদী ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে তুলে ধরেছেন। আইএএস হিসেবে তাঁর প্রায় ৩৫ বছরের দীর্ঘ ও ধারাবাহিক কেরিয়ার রয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও মেধা: প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি তিনি পড়াশোনাতেও অত্যন্ত চৌকস। আমেরিকার সানি স্টোনি ব্রুক (SUNY Stony Brook) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি (Ph.D.) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শীর্ষ আমলা হিসেবে দায়িত্ব: রাজ্য প্রশাসনের একেবারে শীর্ষ স্তরে পৌঁছে তিনি অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (Additional Chief Secretary) হিসেবে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন।
সমবায় দপ্তরের হাল: রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে আসার ঠিক আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমবায় দপ্তরের (Co-operation Department) মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন।
সাংবিধানিক গুরুদায়িত্ব: দীর্ঘ এক বছর পদটি খালি থাকার পর, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সাংবিধানিক পদে তাঁর নির্বাচনই প্রমাণ করে প্রশাসনের চোখে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা বেশি।
কেন এই নিয়োগটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?
স্থানীয় নির্বাচনের পরিচালনা: রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্থানীয় সংস্থা ও পুরভোট পরিচালনার দায়িত্ব তদারকি করবেন।
স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক গুরুত্ব: অবাধ ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচনের জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কার্যপদ্ধতি অত্যন্ত জরুরি। অতীতে বিভিন্ন আদালতের রায়ে ও রিপোর্টে বলা হয়েছে যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে রাজ্য সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করা উচিত।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও সময়সূচি
দায়িত্ব গ্রহণ: সরকারি সূত্র ও ক্লিয়ারেন্স রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ নাগাদ কৃষ্ণা গুপ্তের আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার কথা।
দায়িত্ব ও কর্তব্য: নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি পুরভোট ও স্থানীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা, ওয়ার্ড স্তরে ভোটার তালিকা সংশোধন (Roll Revision) এবং ভোট পরিচালনার সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বে থাকবেন।


